DLS মেথড বা বৃষ্টি আইন কি?কিভাবে এটি ম্যাচে প্রয়োগ করা হয়?
ক্রিকেট খেলায় 'ডি. এল. এস'(DLS) পদ্ধতি, DLS মেথড, বৃষ্টি আইন, Dls নিয়ম কি, DLS method in cricket, ক্রিকেট ডি. এল. এস মেথড,  ক্রিকেট DLS মেথড, বৃষ্টি আইন কি

DLS মেথড বা বৃষ্টি আইন কি?

বৃষ্টি বহুবছর আগে থেকেই ক্রিকেটে DLS মেথড অন্যতম একটি সমস্যার নাম। প্রায় অনেক গুরুত্বপূর্ন ম্যাচই বৃষ্টির কারনে বাধার মুখে পড়ে এবং এর ফলে ম্যাচের রেজাল্টে এর প্রভাব পড়ে। তবে বৃষ্টির জন্য আটকে থাকবে না ক্রিকেট। বৃষ্টিকে সাথে নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট। তবে এই বৃষ্টি বিঘ্নতার কারনে ক্রিকেটে একটি আলাদা আইন আছে। এই আইনকে বৃষ্টি আইন বা DLS Method বলে। আসুন জেনে নিই এই DLS Method বা বৃষ্টি আইন কিভাবে প্রয়োগ করা হয় খেলায়।

DLS মেথড, বৃষ্টি আইন, ক্রিকেট খেলায় 'ডি. এল. এস'(DLS) পদ্ধতি, DLS মেথড, বৃষ্টি আইন, Dls নিয়ম কি, DLS method in cricket, ক্রিকেট ডি. এল. এস মেথড,  ক্রিকেট DLS মেথড

DLS মেথড কিভাবে এটি ম্যাচে প্রয়োগ করে

এই পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য আগে থেকেই একটি ছক প্রস্তুত রাখা এবং কিছু সাধারণ গাণিতিক হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ হাতে থাকা ওভার এবং উইকেট মিলিয়ে একটা পার্সেন্টেজ ব্যবহার করেই এ পদ্ধতি কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ ইনিংসের শুরুতে রিসোর্স পার্সেন্টেজ যত ছিল, বৃষ্টির বিরতির ফলে যেটুকু পার্সেন্টেজ নষ্ট হবে এবং বাকি যা পার্সেন্টেজ থাকবে- সেগুলোর ভিত্তিতেই এ পদ্ধতি কাজ করে।

পরে ব্যাট করা দলের পার্সেন্টেজ যদি প্রথমে ব্যাট করা দলের চেয়ে কম হয়, তাহলে দুই দলের বাকি থাকা পার্সেন্টেজের অনুপাত বের করতে হবে। এরপর পরে ব্যাট করা দলের জয়ের লক্ষ্য হবে প্রথমে ব্যাট করা দলের স্কোরকে সেই অনুপাত দিয়ে ভাগ করে।

যদি পরে ব্যাট করা দলের পার্সেন্টেজ প্রথমে ব্যাট করা দলের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রথমে ব্যাট করা দলের পার্সেন্টেজকে পরে ব্যাট করা দলের পার্সেন্টেজ থেকে বাদ দিতে হবে। এরপর সেটিকে ২২৫ এর পার্সেন্টেজ বানাতে হবে (এখানে ২২৫ হলো আইসিসি নির্ধারিত ওয়ানডের গড় স্কোর)। এরপর সেটিকে প্রথমে ব্যাট করা দলের স্কোরেরর সঙ্গে যোগ করে পরে ব্যাট করা দলের জন্য জয়ের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।

 

পরে ব্যাট করা দলের ক্ষেত্রে বৃষ্টির বাগড়ায়ে ম্যাচ স্থগিত হওয়ার উদাহরণ: প্রথমে ব্যাট করে দল ৫০ ওভারে ২৫০ রান করলো। রান তাড়া করতে নেমে পরে ব্যাট করা দল ৪০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৯ রান করার পর বৃষ্টি হানা দিলো। 

এখানে, প্রথমে ব্যাট করা দল পুরো ৫০ ওভারে খেলেছে। তাই তাদের রিসোর্স (পার্সেন্টেজ) = ১০০%। পরে ব্যাট করা দলের শুরুতে রিসোর্স ছিল = ১০০% হলেও ৪০ ওভার শেষে তারা ৫ উইকেট হারানোয়, ছক অনুযায়ী তাদের রিসোর্স বাকি= ২৬.১%। অর্থাৎ পরে ব্যাট করা দলের মোট ব্যবহৃত রিসোর্স ৭৩.৯%। এখানে পরে ব্যাট করা দলের রিসোর্স প্রথমে ব্যাট করা দলের চেয়ে কম। তাই পরে ব্যাট করা দলের জয়ের লক্ষ্য হবে মূল লক্ষ্যের ৭৩.৯/১০০ গুণ। প্রথমে ব্যাট করা দলের স্কোর ছিল ২৫০। তাই পরে ব্যাট করা দলের জয়ের লক্ষ্য হবে ২৫০x৭৩.৯/১০০=১৮৪.৭৫=১৮৫।

পরে ব্যাট করা দলের ক্ষেত্রে বৃষ্টির বাগড়ার পর আবার খেলা শুরু হওয়ার উদাহরণ: ধরা যাক, ৪০ ওভারের কার্টেল ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করা দল ২০০ রান করে।  পরে ব্যাট করা দল ৩০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪০ করার পর বৃষ্টি শুরু হলো। এ অবস্থায় বৃষ্টির জন্য ৫ ওভার খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হলো। এক্ষেত্রে পরে ব্যাট করা দলের জন্য জয়ের লক্ষ্য কত হবে?

প্রথমে ব্যাট করা দল ৪০ ওভার খেলায় তাদের রিসোর্স ৮৯.৩%। পরে ব্যাট করা দলের ইনিংস শুরুর সময় রিসোর্সও তাই। ৩০ ওভার শেষে পরে ব্যাট করা দলের ১০ ওভার এবং ৫ উইকেট হাতে ছিল। তখন তাদের রিসোর্স= ২৬.১%। ৫ ওভার কাটা যাওয়ায় খেলা নতুন করে শুরু হলে ৫ ওভার হাতে থাকল। এই অবস্থায় রিসোর্স থাকলো= ১৫.৪%।

সুতরাং, রিসোর্স কাটা গেল ২৬.১-১৫.৪=১০.৭%। অর্থাৎ রিসোর্স বাকি থাকে= ৮৯.৩-১০.৭=৭৮.৬%। পরে ব্যাট করা দলের রিসোর্স প্রথমে ব্যাট করা দলের চেয়ে কম। তাই পরে ব্যাট করা দলের সামনে জয়ের লক্ষ্য হবে মূল লক্ষ্যের ৭৮.৬/৮৯.৩ গুণ। যেহেতু প্রথমে ব্যাট করা দল ২০০ রান করেছে, তাই পরে ব্যাট করা দলের নতুন লক্ষ্য হবে ২০০x৭৮.৬/৮৯.৩=১৭৬ রান। যেহেতু তারা ১৪০ রান করেছে, তাই বাকি ৫ ওভারে জয়ের জন্য তাদের আরও ৩৬ রান করতে হবে।

প্রথমে ব্যাট করা দলের ইনিংসে বৃষ্টি হানা দেওয়ার উদাহরণ: ৫০ ওভারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করা দল ২৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান সংগ্রহের পর বৃষ্টির কারণে ওভার কাটা যাওয়ায় তাদের ইনিংস শেষ ঘোষণা করার পরে ব্যাট করা দলকে ২৫ ওভার ব্যাট করার সুযোগ দেয়া হলো। এখন বৃষ্টির আগে প্রথমে ব্যাট করা দল জানতো না যে তাদের ইনিংস ২৫ ওভারে শেষ হয়ে যাবে। তবে পরের ইনিংসে প্রতিপক্ষ সেটি জেনেই ব্যাট করতে মাঠে নামছে। তাই তাদের সামনে একই লক্ষ্য রাখাটা একটু অবিচার। তাই এক্ষেত্রে পরে ব্যাট করা দলের জয়ের লক্ষ্য বেশি দেওয়া হয়।

DLS মেথড,বৃষ্টি আইন, ক্রিকেট খেলায় 'ডি. এল. এস'(DLS) পদ্ধতি, DLS মেথড, বৃষ্টি আইন, Dls নিয়ম কি, DLS method in cricket, ক্রিকেট ডি. এল. এস মেথড,  ক্রিকেট DLS মেথড

প্রথমে ব্যাট করা দল মাত্র ২৫ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পাওয়ায় এবং ২ উইকেট হারানোয় তাদের ৬০.৫% রিসোর্স বাকি ছিল। যেহেতু ১০০% রিসোর্স থাকা অবস্থায় ইনিংস শুরু করেছে সুতরাং তারা মাত্র ১০০-৬০.৫=৩৯.৫% রিসোর্স ব্যবহার করতে পেরেছে। পরে ব্যাট করা দল ২৫ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেলেও তাদের হাতে ১০ উইকেট থাকায় রিসোর্স হবে ৬৬.৫%, যা আগে ব্যাট করা দলের চেয়ে ২৭% বেশি।

সুতরাং প্রথমে ব্যাট করা দলের চেয়ে তাদের ২২৫ এর ২৭% অর্থাৎ ৬০.৭৫ রান বেশি করতে হবে (৫০ ওভারের ওয়ানডের এভারেজ স্কোর ২২৫ ধরা হয়)।সুতরাং পরে ব্যাট করা দলের লক্ষ্য হবে ১০০+৬০.৭৫=১৬০.৭৫ বা ১৬১ রান। এভাবে পরে ব্যাট কয়রা দলের আগে থেকে জেনে ২৫ ওভার ব্যাটিং করার সুবিধাটা পুনর্নির্ধারিত করা হলো।

এছাড়া, ম্যাচের প্রথম ইনিংসের মাঝপথে খেলা স্থগিত হয়ে আবার প্রথম ইনিংস শুরু হলে সেক্ষেত্রেও ডি/এল মেথড অনুযায়ী জয়ের লক্ষ্যের কাটাছেঁড়া হবে।

This platform is proudly developed and supported by Trenza Softwares