বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
ভালো ব্যাটিং করার কৌশল
ব্যাটিংয়ে দুইটি কথাই আসল- পূর্ণভাবে মনোনিবেশ (Concentration) ও বলটিকে তির্যক দৃষ্টিতে লক্ষ্য রাখা (Sighting the ball obliquely)। বোলার বল হাতে নেওয়া থেকে বল হাত থেকে ছোঁড়া পর্যন্ত বল, বোলারের আঙ্গুল ও কব্জি লক্ষ্য করা। এতে করে বোলারের বল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিচার করা সহজ, কোন বলটায় ফরোয়ার্ড বা ব্যাক খেলতে হবে ইত্যাদি।
ব্যাটসম্যানকে নিজের জায়গায় দাড়িয়ে থেকে ফিল্ডটা একবার মাত্র দেখে ছবির মতো মানস চক্ষে ফিল্ড সাজানোর ব্যাপারটা স্মরণ রাখতে হবে এবং যেখানটায় ফিল্ড সাজানো দুর্বল ও সেদিকেই বল পাঠাতে হবে এজন্য ফটোগ্রাফিক মেমরীর দরকার। ভাল ব্যাটিং করতে হলে প্রখর দৃষ্টি শক্তির সঙ্গে থাকতে হবে ‘Reflex Action' বাংলায় যাকে বলা হয় প্রতিবর্তী ক্রিয়া।
প্রখর দৃষ্টিশক্তি এবং রিফ্লেক্স ভাল হলে পলকে বল বিচার বা বাছাই করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ সময় দু'টি জিনিসের বিশেষ দরকার। বল দেখার সময় ও খেলার সময় মাথা যেন বেশি নড়া-চড়া না করে তাহলে বলটি ভাল দেখা যাবে ও মারতে সুবিধা হবে। ব্যাটিং হাত-পা ও চোখের খেলা। বল ভাল করে দেখে, বল বিচার ও বাছাই করে ব্যাটসম্যানকে বলটি খেলতে হবে। ব্যাটিং করার সময় শারীরিক জড়তা এবং নিস্ক্রিয়তা বাদ দিতে হবে।
ব্যাটিংয়ের এগিয়ে বা পিছিয়ে খেলা ফরোয়ার্ড বা ব্যাক এই দু'টি পদ্ধতিই আসল। যারা ব্যাক খেলেন তারাই জগতের অসাধারণ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মেজরিটি। ব্যাক খেললে বল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায় এবং এজন্য ভুলের সম্ভাবনাও কম। লম্বা ব্যাটসম্যানদের ক্রিকেট খেলতে সুবিধা আছে- তা বলে লম্বা ব্যাটসম্যান হলেই সে হবে অ্যাটাকিং ব্যাটসম্যান বেটে হলে ডিফেনসিভ এটা মস্ত ভুল ধারণা। কারণ, ব্যাটসম্যান অ্যাটাকিং বা ডিফেনসিভ হন ফুট ওয়ার্ক-এর দরুণ। অনুশীলন, অক্লান্ত সাধনা বিনা সব শিক্ষাই নিষ্ফল। কোন বল কি ভাবে খেলতে হবে সেটা মুখে শুনে, দেখে বই পড়ে ঠিক হবে না যতটা হবে হাত-পা চোখের সমন্বয়ে। ব্যাটিং ক্রমাগত সাধনা করে যখন বল বিচার ও বাছাই প্রয়োজন মত এগিয়ে পিছিয়ে খেলা এবং মারা স্বভাবজাত বা অভ্যাসে দাড়িয়ে যাবে তখনই ব্যাটিং হবে পরিপূর্ন সাফল্যমন্ডিত।
গ্রিপ বা কিভাবে ব্যাট ধরবে
গ্রিপে ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ এবং সুবিধাই বড় কথা। গ্রিপের মূল উদ্দেশ্য ব্যাটের কন্ট্রোল এবং মারের পিছনে জোর। ব্যাট ধরার হাতের আঙ্গুল এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় ব্যাটের হাতার চার পাশে জড়িয়ে থাকবে। বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনি পরস্পর একই লাইনের অবস্থান করবে। হাত দুটি পরস্পর বেশ লাগানোভাবে আরামভাবে বাম উরুর উপর ভর করে থাকবে। লক্ষ্য করলে হাতদুটি একটি 'V অক্ষরের মত দেখা যাবে। এ ব্যাপারে জগতের শ্রেষ্ঠ ক্রিকেট খেলোয়াড়েরা একমত নন। ব্যাটটাকে এমনিভাবে ধরতে হবে যাতে ধরাটা স্বাভাবিক হয় ও বেশ জোর পাওয়া যায়।
স্টান্স বা দাড়াবার ভঙ্গি
দাঁড়াবার ভঙ্গি নিয়েও কিছুটা মতানৈক্য দেখা যায়, তবে স্টান্সে মনে রাখতে হবে যেন ব্যাট ধরবার মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিজের ভারসাম্য বা ব্যালান্স বজায় রেখে দাঁড়াতে কোন প্রকার কষ্ট বা অসুবিধা না হয়। যখন যেমনটি প্রয়োজন বা ইচ্ছা এগিয়ে পিছিয়ে সমান দ্রুততার সঙ্গে খেলতে কোন অসুবিধা না হয়।
ষ্টান্স মাথা নিচের দিকে দেখবে ও সামনের উইকেটটি চোখ বরাবর থাকবে। কাঁধ বোলারের দিকে নিশানা করে বরাবর থাকবে হাটুদ্বয় ক্রীজের সঙ্গে সমান্তরাল ও একে অপর হতে ৪" হতে ৬" দূরে অবস্থান করবে।খেয়াল রাখতে হবে যাতে বোলারকে ভালভাবে লক্ষ্য করা যায় এবং ভ্রূ বা চোখ কুঁচকে দেখতে না হয়।
এগুলো মনে রেখে পপিং ক্রীজটা দু'পায়ের মাঝখানে রেখে ব্যাট হাতে এমনিভাবে অবস্থান নিতে হবে যাতে ডান পা'টা পপিং ক্রীজের ভিতরে থাকে। অন্ততঃ পপিং ক্রীজের লাইনের দু'আড়াই ইঞ্চি ভিতরে; বা অর্থাৎ সামনের পা পিছনের পা থেকে ছ'ইঞ্চি এগিয়ে অর্থা পপিং ক্রীজের তিন চার ইঞ্চি সামনে থাকবে। ৯ ইঞ্চি হতে ১ ফুট অন্তর অন্তর পা দুটি থাকলে দাঁড়ানোর ভঙ্গি সহজ হয়। পা দু'টি সমান্তরালভাবে পপিং ক্রীজের সীমানায় থাকবে ও দেহের ভারসাম্য উভয় পার্শ্বে সমানভাবে ভাগ করে দিয়ে দাঁড়াতে হবে।
দেহের ওজন থাকবে পায়ের পাতার উপর গোড়ালীর উপর খুব কম করে থাকবে। এই সময় ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলটা পয়েন্টের দিকে আর বাম পায়েরটা কভার মুখী। চোখ দু'টি বোলারের দিকে, আর বাম কাঁধটা ব্যাটসম্যানের বিপরীত দিকের উইকেটের দিকে, আর বাম কাঁধ্টা ব্যাটসম্যানের বিপরীত দিকের উইকেটের দিকে, মাথাটা স্থির ব্যাটসম্যানের ইচ্ছা ও সুবিধা অনুযায়ী ব্যাটটাকে ডান পায়ে আঙ্গুলের সামনের দিকেও রাখতে পারে এবং পিছনের দিকেও রাখতে পারে তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, হ্যাণ্ডলটা যেন এমনভাবে না থাকে যাতে বল মারবার সময় প্যাডে বা প্যান্টে আটকে যায় বা বাধা পায়। খেয়াল রাখতে হবে যে, পপিং-ক্রীজের অন্তর্বর্তী সীমারেখার মধ্যেই ব্যাটসম্যানকে দাঁড়াতে হবে এবং বাইরের সীমারেখাটিতে নয়। ব্যাট নিয়ে দাঁড়াবার সময় একদম সোজা বা খাড়া হয়ে দাঁড়ান বা ব্যাটের ওপর কুঁজো হয়ে দাঁড়ানো-কোনটাই ঠিক নয়। সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে, কিন্তু স্বাচ্ছন্দের সঙ্গে সেটা সম্ভব হবে হাঁটু সামান্য একটু মুড়ে বা ভেঙ্গে নিলে। অনেকে স্টাঙ্গে এমনিভাবে দাঁড়ায় যাতে এক চোখে বল দেখা যায়। এক চোখে বল ভাল দেখা যায় না, সেজন্য স্টান্স যে রকমই হোক দু'চোখ দিয়ে বল দেখা যায় এমন স্টান্স নিতে হবে।
বাংলা
English
