আক্রমণাত্মক খেলা এগ্রেসিভ ব্যাটিং
 এগ্রেসিভ ব্যাটিং, আক্রমণাত্মক খেলা, ব্যাটিং, ব্যাটিং করার নিয়ম,ক্রিকেট খেলার নতুন নিয়ম, কভার ড্রাইভ, স্ট্রেট ড্রাইভ, অফ ড্রাইভ, অনড্রাইভ, ব্যাক ফুট ড্রাইভ, জাম্পিং আউট টু ড্রাইভ

আক্রমণাত্মক খেলা এগ্রেসিভ ব্যাটিং করার নিয়ম

আক্রমণাত্মক খেলা এগ্রেসিভ ব্যাটিং আত্মরক্ষামূলক খেলা খেলে উইকেটে টিকে থাকতে হয় আর রান করতে হলে জোরে পিটিয়ে খেলতে হবে। কিন্তু বলটাতে ঠিক কোন সময় পিটাতে হবে এবং ঢিলা বা লুজ (Loose) বল চিনতে না পারলে বল পিটাতে গিয়ে যে কোন মুহূর্তে ব্যাটসম্যান নিজের বিপদ ডেকে আনবে। লুজ বা ঢিলা বল বলতে এমন বল বোঝায় যার লেংথ কম বা বেশি, যে বল উইকেট তাক করে না এসে লেগ স্টাম্প ও অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে আসছে। ড্রাইভ মারগুলোই পিটিয়ে খেলার মার। ফরোয়ার্ড ড্রাইভ সাধারণত চার রকমের -

  • কভার ড্রাইভ
  • স্ট্রেট ড্রাইভ
  • অফ ড্রাইভ
  • অনড্রাইভ

কভার ড্রাইভ, এগ্রেসিভ ব্যাটিং, আক্রমণাত্মক খেলা, ব্যাটিং, ব্যাটিং করার নিয়ম,ক্রিকেট খেলার নতুন নিয়ম

ড্রাইভ-এর টেকনিক একই কিন্তু মারের জোরের জন্য ব্যাক লিফট সামান্য বেশি আর বলটি মারার পর সম্পূর্ণ ফলো থ্রু করতে হবে। বলে ডিরেকশন বা বলটাকে কোন দিকে পাঠানো হয় সেই অনুসারে এর নামকরণও হয়ে থাকে। যেমন মিড অন'-এর কাছ দিয়ে অন ড্রাইভ-এর বলটা যাবে, “কভার পয়েন্টের মধ্যখান দিয়ে ‘কভার ড্রাইভ-এর বলটা যাবে, সেইভাবে 'মিড অফ' আর পাশ দিয়ে "অফ ড্রাইভ'-এর স্ট্রেট ড্রাইভ যাবে নাকের সোজা বা নাক বরাবর উইকেটের সামনে দিয়ে । এই চার রকম মারই সাধারণতঃ এগিয়ে এসে মারবার মত মার। ড্রাইভ মারবার সময় গায়ের সম্পূর্ণ জোর দিয়ে ড্রাইভ মারা ভাল। ড্রাইভ মারাটা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ মার। একমাত্র বিপদ হচ্ছে যে বলটা একটু বেশি উপরে উঠে যেতে পারে, তাছাড়া ড্রাইভ করাই হয় রান করার উদ্দেশ্যে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাটসম্যানেরা বাউণ্ডারী মারার জন্য ড্রাইভ মারাটা মারেন এবং বলটাকে এমন জায়গায় ফেলতে চেষ্টা করেন যাতে বলটি ফিল্ডারদের নাগালের বাইরে দিয়ে যায়। ব্যাটসম্যানকে নিজে থেকেই স্থির করতে হবে যে, সে কোন ড্রাইভটা করবে।

অফ ড্রাইভ

অফ ড্রাইভ-এর বল সাধারণ অফ ট্রাম্পের চার থেকে ছ'ইঞ্চির ভিতর হয়। অফ ড্রাইভ মারবার সময় ব্যাটটাকে একটু 'অফের দিকে কোণাকুণিভাবে ঘোরাতে হবে, যাতে ওই দিকে বলটা যায়। শুধু বল অনুযায়ী ব্যাটসম্যানের বাঁ পায়ের টো একট্রাকভার বা মিড অফের দিকে। সুতরাং ড্রাইভ কভার থেকে লং-অফ বাউণ্ডারীর অঞ্চলে যাবে। অফ ড্রাইভ সঠিকভাবে হলে, ফলো থ্রুর পর ব্যাটসম্যানের বাঁ প্যাড, বুক ড্রাইভের ডিরেকশন অনুযারী, একটা কভার থেকে লং-অফ-এর দিকে ব্যাট বাঁ কাঁধের উপর গিয়ে থাকবে। অঙ্ক ড্রাইভে বাম হাঁটুটা বাঁকবে কিন্তু ব্যাটকে ব্যাক লিফট নিয়ে পিঠের উপর দিয়ে ডান কান পর্যন্ত উঠাতে হবে। এখান থেকে ব্যাটটা ঘড়ির পেন্ডুলামের মত গায়ের সমস্ত জোর দিয়ে পায়ের আঙ্গুলের মাথার কাছে বলটি যখন

মাটি হতে পিচ খেয়ে ইঞ্চি তিনেক উপর উঠে এসেছে তখন তাতে মারতে হবে এবং পরে হাতের ফলো থ্রু যা পূর্বে বলা হয়েছে।

অন ড্রাইভ

টেকনিক বা কৌশলের দিকে দিয়ে অফ আর অন ড্রাইভ প্রায় একইরকম তবে অন্যান্য ড্রাইভের তুলনায় অন ড্রাইভের মারটা কিছুটা শক্ত। যে বলটা স্টাম্পের প্রায় গা ঘেঁষে আসছে অন ড্রাইভে সে বলটাকে অনের দিকে পাঠাতে হবে। বল লেগ স্টাম্প বা তার বাইরে লেগের দিকে হতে হবে, সুতরাং বলের ডিরেকশন অনুযায়ী, অন ড্রাইভের মার যাবে লং অন থেকে মিড উইকেটের এমন কি স্কোয়ার লেগের সীমানা পর্যন্ত। এই সময় দু'টি জিনিষ মনে রাখতে হবে, প্রথমত ব্যাটের ফেস বা বুক অন সাইড বলের ডিরেকশন অনুযায়ী অল্প বিস্তর কাজ করে নিতে হবে, এবং দ্বিতীয়ত স্ট্রোকের পিছনে বাঁ- কাঁধে জোর বিশেষ থাকবে না, ইমপ্যাক্ট-এর সময় বাঁ কাঁধ শক্ত না করে ঝুলিয়ে নিলেই সেটা সম্ভব হবে। অফ ড্রাইভের কাজটা একটু শক্ত বলে মনে হয় এই জন্য অল্পদূর হতে বন্ধুর সাহায্যে আণ্ডার আর্ম বলে শুধু এই কাজটুকুর অনুশীলনী করা ভাল । অফ ড্রাইভের মত অনড্রাইভেও একই প্রকারের মারের কায়দা, ফলো থ্রু ও ব্যাক লিফটের ব্যবহার থাকে।

 

অন ড্রাইভ, এগ্রেসিভ ব্যাটিং, আক্রমণাত্মক খেলা, ব্যাটিং, ব্যাটিং করার নিয়ম,ক্রিকেট খেলার নতুন নিয়ম

স্ট্রেট ড্রাইভ

অন আর অফ ড্রাইভ ভাল করে দখলে আসলে স্ট্রেট ড্রাইভে আপনা থেকেই হাত এসে যায়। স্ট্রেট ড্রাইভটি মারাত্মক হয় যদি বলটি ব্যাটে না লাগে কারণ তাহলে বলটি সোজা এসে উইকেট ভেঙ্গে দেবে। এইজন্য যে পর্যপ্ত ভাল সময়জ্ঞান ও নিশ্চিতভাবে বলটি মাটি দিয়ে গড়িয়ে পাঠানোর মত যোগ্যতা না আসে সে পর্যন্ত স্ট্রেট বলে ফরোয়ার্ড ডিফেন্সিভ খেলাই নিরাপদ। স্টেট ড্রাইভ-এর জন্য বল সোজা স্টাম্পের উপর হতে হবে। তাই ফলো থ্রুর শেষে ব্যাটসম্যানের বা পা, বুক, দু'টি কনুই বোলারের দিকে, ব্যাট ব্যাটসম্যানের মাথার উপর স্ট্রেট ড্রাইভ মারলে বলটা যাবে বোলারের সামান্য ডান বা বাঁ পাশ দিয়ে। প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, স্ট্রেট ড্রাইভের মারে বাউণ্ডারী হয় অথবা বলটি বাউণ্ডারী অবধি যায়।

কভার ড্রাইভ

কভার ড্রাইভে মার হল, অফ-এর বাইরে ওভার-পিচ বল, অফ স্টাম্পের ফুটখানেক বা কিছু বেশি বাইরে, বা পায়ের টো কভারের দিকে বাড়িয়ে ডান পায়ের টো ক্রীজের ভিতরে রেখে, ব্যাটের বুকটা সামান্য এক সাইডের দিকে কাত করে পারপেণ্ডিকুলার ভাবে বল মারলে বলটি কভার বাউণ্ডারীর দিকে যাবে। ঠিকভাবে কভার ড্রাইভ হলে মারের জন্য ব্যাটের সুইং ডান কাঁধের উপর থেকে ঘুরে বাঁ কাঁধের উপর শেষ হবে- ব্যাটসম্যানের বাঁ পা, বুক ও মুখ কভারের দিকে থাকে।

কভার ড্রাইভ, এগ্রেসিভ ব্যাটিং, আক্রমণাত্মক খেলা, ব্যাটিং, ব্যাটিং করার নিয়ম,ক্রিকেট খেলার নতুন নিয়ম

জাম্পিং আউট টু ড্রাইভ

সাধারণ ড্রাইভের সাথে জাম্পিং আউট বা রানিং আউট টু ড্রাইভের প্রভেদ এই যে, সাধারণ ড্রাইভে পপিং ক্রীজের ভিতরে ডান পা রেখে ড্রাইভ করা হয়। আর জাম্পিং বা রানিং আউট টু ড্রাইভে ড্রাইভ করতে হলে প্রথমেই বল বিচার করতে হবে। নির্ভুল ভাবে ব্যাটসম্যানকে নিশ্চিত হতে হবে যে বলের পিচ-এ তিনি পৌঁছাতে পারবেন। ড্রাইভে মনে রাখতে হবে বলটি পিচ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধরা। ব্যাটের আর্ক অর্থাৎ চাপটি (বৃত্তের চাপ) লম্বা এবং চেষ্টা থাকবে তড়িৎ বল প্রয়োগ না করে বেগ প্রয়োগ করতে হবে।

আগে বেড়ে ড্রাইভ মারো : ব্যাটকে উঁচু করে উঠাও। মাথা ও বাম স্কন্ধ আগে বেড়ে যাবে। বাম হাত আয়ত্বের মাধ্য দেহের ওজন পরিবর্তিত হয়ে সামনের দিকে বাম পায়ের উপরে যাবে। ডান পা-টি পায়ের গোড়ালীর পিছনে হেচরিয়ে নিয়ে আস যাতে দেহটা এক পার্শ্ব হয়ে থাকে। মাথা এখনো বেশ বাইরে দৃঢ়ভাবে থাকবে। বাহুদ্বয়ের মধ্যে হস্তদ্বয় আগে বেড়ে থাকবে ও যেদিকে বল গেছে সেদিকে দোলানো থাকবে। বাম পায়ের মাথাটা মিড অফের দিকে নির্দিষ্ট করা থাকবে। কারণ, বলের দূরত্ব অনুযায়ী দুই বা তিন চার স্টেপ নিতে হবে। ক্ষিপ্র গতিতে ব্যাটসম্যানের কাজ ছেড়ে এগিয়ে লাফিয়ে বা ক্ষিপ্র গতিতে ড্রাইভ করা সাধারণত স্লো, স্লো মিডিয়াম বা মিডিয়াম স্লো বলে সম্ভব। বল বোলারের হাত ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোথায় পিচ পড়বে তা আন্দাজ করে, তার কাছে ক্ষিপ্রগতিতে গিয়ে বা লাফিয়ে বাঁ পা এগিয়ে সপাটে ব্যাট চালালে ড্রাইভে বেশ জোর হবে।

জাম্পিং আউট টু ড্রাইভ, এগ্রেসিভ ব্যাটিং, আক্রমণাত্মক খেলা, ব্যাটিং, ব্যাটিং করার নিয়ম,ক্রিকেট খেলার নতুন নিয়ম

ব্যাক ফুট ড্রাইভ

শর্ট পিচ বলকে জোরে পিটিয়ে খেলতে হলে ব্যাক ফুট ড্রাইভ মারের প্রয়োজন ব্যাকওয়ার্ড ডিফেন্সিভ থেকে ব্যাক ফুট ড্রাইভে বল খেলতে হয়। ব্যাক ফুট ড্রাইভ মারার প্রাথমিক মুভমেন্ট ব্যাটের লিফট, ডাউন ওয়ার্ড সুইং অর্থাৎ ব্যাট নামানো, ডিফেন্সিভ ব্যাক প্লের মতোই কিন্তু পিছনে বা ডান-পা বলের লাইনে সোজা স্টাম্পের দিকে যাবে, ডান পায়ে জোর, বাঁ পা ডান পায়ের কাছাকাছি। ডান পায়ের সামনে থেকে ব্যাটের হ্যাণ্ডল সামনে রেখে ব্লেড সামান্য পিছনে কজি ও ফোর আর্ম-এর সমস্ত জোর দিয়ে বল সামনে মারতে হবে, রো ফেলো থ্রু সমেত। ফরোরার্ড ড্রাইভের তুলনায় ব্যাকফুট ড্রাইভ মারের আরম্ভ। ডান পা পিছিয়ে উইকেটের সামনে আড়াআড়িভাবে বলের লাইনে। চোখ খাড়া বলের উপরে। ব্যাকফুট ড্রাইভ মারের শেষ। বাঁ পা টেনে এনেছে পপিং ক্রীজের ভিতরে। ফলো থ্রতে বা কনুইই ছুঁচলো হয়ে উঠেছে উপরের দিকে । ব্যাকফুট ড্রাইভটি বেশ শক্ত। কারণ, পিছন দিকে, উইকেটের দিকে হটে বল মারতে ভাল অভ্যাস না করলে হিট্ -উইকেট হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এ জন্য ব্যাক লিফটের কাজটা কনুই পর্যন্ত ব্যাট উঠিয়েই সীমাবদ্ধ ও সংযত হয়ে কব্জিরজোরে বেলটাকে বেশি দূরে পাঠাতে পারে না। বলটি মারার জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়ার দরুণ এতে করে সব রকম মারই খুব কাজে আসে ও রান তোলার জন্য উপযোগী হয়। সাধারণতঃ দেখা যায়, বেঁটে ব্যাটসম্যানেরা ফরোয়ার্ড প্লের চেয়ে ব্যাক প্লের উপরই বেশি নির্ভর করে থাকে। ব্যাক ফুট ড্রাইভের মারটি বেশ কঠিন, তাই অধ্যবসায়ের দ্বারা এটা আয়ত্বে আনতে চেষ্টা করতে হবে ।

This platform is proudly developed and supported by Trenza Softwares