বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
বাংলাদেশে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে আমাদের দেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অন্যতম আগ্রহের জায়গা হচ্ছে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়া।উন্নত বিশ্বে একজন কিশোর-কিশোরীদের খেলোয়াড় হওয়ার একটা সঠিক কাঠামো থাকলেও আমাদের দেশে খেলোয়াড় তৈরির কাঠামো অনেকটাই অপ্রতুল।কিন্ত এই সীমিত কাঠামোর মাঝেও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান(বিকেএসপি) প্রতি বছর জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে উপহার দিয়ে যাচ্ছে অনেক মেধাবী পেশাদার খেলোয়াড়।
বিকেএসপির একমাত্র উদ্দেশ্য দেশের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরি করা।শুধু তাই নয় এর পাশাপাশি এখানে পড়াশোনাটাও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।বিকেএসপি থেকে উঠে এসে এখন বিশ্ব মাতাচ্ছেন মুশফিকুর রহীম,সাকিব আল হাসান,শেখ মোরসালিনের মতো ক্রীড়াবিদরা।
বিকেএসপি কী?
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) দেশের প্রধান এবং একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষা কেন্দ্র।
সাভারে প্রধান কেন্দ্র ছাড়াও চট্টগ্রাম,খুলনা,বরিশাল,সিলেট,ময়মনসিংহ এবং দিনাজপুরে রয়েছে বিকেএসপির আঞ্চলিক কেন্দ্র।প্রতি বছরই বিকেএসপিতে বিশেষ ক্রীড়ামেধাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের সাধারন শিক্ষাসহ ক্রীড়াক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হয়ে থাকে,এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে নতুন খেলোয়াড় ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিকেএসপি।
যেসব খেলায় রয়েছে ভর্তির সুযোগঃ
ক্রিকেট,ফুটবল,অ্যাথলেটিক্স,আর্চারি,সাঁতার ও ড্রাইভিং,কারাতে,বক্সিং,জুডো,কাবাডি,উশু,জিমন্যাস্টিক্স,বাস্কেটবল,টেনিস,হকি,ভলিবল,তায়কোয়ান্দো,শুটিং,টেবিল টেনিস,স্কোয়াশ,ভারোত্তোলন এবং ব্যাডমিন্টন এই ২১ ধরনের খেলায় শিক্ষার্থী ভর্তি নেবে বিকেএসপি।
সাধারণত চতুর্থ,পঞ্চম,ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণীতে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।অ্যাথলেটিক্স,বাস্কেটবল ও ভলিবলের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত সুযোগ রাখা হয়।তবে বিশেষ ক্রীড়ামেধাসম্পন্ন খেলয়াড়ডের জন্য বয়স,শ্রেণী এবং উচ্চতা শিথিলযোগ্য।সম্পূর্ণ আবাসিক ব্যবস্থায় চলে পড়াশোনা এবং খেলাধূলার নিবিড় পরিচর্যা।
বিকেএসপি তে ভর্তির বয়সসীমা কত?
√ সাধারণত বিকেএসপি তে ভর্তি হতে বয়স ১২-১৪ বছরের মধ্যে হতে হবে।
বিকেএসপিতে কোন কোন শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ রয়েছে?
√ পঞ্চম,ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হতে হবে।তবে বিশেষ ক্রীড়া মেধাসম্পন্নদের অষ্টম এবং নবম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আছে।
বিকেএসপি তে ট্রায়াল দিতে কি টাকা লাগে?
√ বিকেএসপি তে ট্রায়াল দেওয়ার সময় রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ২০০/- টাকা ট্রায়ালের দিন জমা নেওয়া হয়।এছাড়া ৭ দিনের আবাসিক ক্যাম্প সম্পূর্ণ ফ্রি,এতে কোন টাকা লাগে না,শুধু খেলার সামগ্রী এবং ড্রেস নিয়ে গেলেই হবে।
বিকেএসপিতে ট্রায়াল দিতে কি কি লাগে?
√ সত্যায়িত অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ
√ স্কুলের প্রত্যায়ন পত্র
√ নিজ খেলার সামগ্রী
√ খেলার পোষাক এবং জুতা
√ অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করা ফরম
√ ফরম ফিলাপ বাবদ ২০০ টাকা
বিশেষ মেধাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের জন্য কি বিকেএসপিতে কোন বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়?
√ বিশেষ প্রতিভাসম্পন্ন খেলয়াড়ডের জন্য বয়স,উচ্চতা এবং ক্লাসের উপর কিছু শিথিলযোগ্য ব্যবস্থা রয়েছে।এখানে বিশেষ মেধা সম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করা খেলোয়াড়দের জন্য প্রযোজ্য।যেমনঃ বয়স ভিত্তিক জাতীয় দলের প্লেয়ার অথবা বাংলাদেশ গেমসে পদক প্রাপ্ত খেলোয়াড়দের জন্য প্রযোজ্য।সেটাও বিকেএসপির গেইম ডেভেলপমেন্টের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করবে।
শারিরীক প্রতিবন্ধী কিংবা মানসিক সমস্যা থাকলে কি বিকেএসপিতে অংশগ্রহণ করা যায়?
√ শারিরীক প্রতিবন্ধী বা মানসিক সমস্যা থাকলে বিকেএসপির ট্রায়ালে অংশ নেওয়া যাবে না।
বিকেএসপি তে চান্স পেলে ভর্তি খরচ কেমন?
√ চান্স পাওয়ার পর ভর্তি বাবদ ১৫০০০ টাকার মতো লাগে।এই ১৫০০০ টাকার মধ্যে বাৎসরিক মেডিক্যাল খরচ,লাইব্রেরি খরচ,এক মাসের বেতন,বিকেএসপির জার্সি এবং অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত।
বিকেএসপি তে মাসিক বেতন কত?
মাসিক বেতন পরিবারের মাসিক আয়ের ১০%-১৫%,এটা একাউন্টস ডিপার্টমেন্ট পরিবারের আয়ের উৎস যাচাই করে নির্ধারন করে থাকে।
HSC পাশ করার পর কি বিকেএসপি তে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আছে?
√ হ্যাঁ,অবশ্যই আছে।তবে HSC পাশ করার পর HSC পাশের সালের দুই বছরের মধ্যে জাতীয় পর্যায় বা ঢাকা লিগ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলে ডিগ্রিতে ট্রায়াল দেওয়া যাবে।
ডিগ্রিতে বিকেএসপিতে ভর্তির আসন সংখ্যা কত?
√ ডিগ্রিতে ভর্তির আসন সংখ্যা খুবই সীমিত।ক্রিকেট এবং ফুটবল ক্যাটাগরিতে ৪-৬ জন করে ভর্তি নেওয়া হয় আর বাকি খেলায় ২-১ জন করে ভর্তি নেওয়া হয় গেইম ডেভেলপমেন্টের ডিমান্ড অনুযায়ী।তাই ডিগ্রিতে শুধুমাত্র এডভান্স লেভেলের প্লেয়ার এডভান্স কোচিং এর জন্য ভর্তি নেওয়া হয়।
বিকেএসপিতে ভর্তির জন্য কোন সুপারিশ বা আর্থিক লেনদেন কি গ্রহণযোগ্য?
√ ভর্তির জন্য যে কোন প্রকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন বা ক্ষমতাসীন ব্যাক্তির সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয়।বরং এসবের আবেদন পত্র বাতিল হয়ে যাবে বলে গণ্য হবে।
বিকেএসপিতে ভর্তি প্রক্রিয়াঃ
ভর্তির জন্য প্রথমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সেটি যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হয়।এরপর আবেদনপত্র থেকে বাছাই করা শিক্ষার্থীদের ডাকা হয় নির্ধারিত দিনে।বিকেএসপির প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নির্ধারিত দিনে প্রশিক্ষণার্থীদের ভর্তি বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।প্রাথমিক বাছাইয়ে সাধারণত বয়স ও স্বাস্থ্য দেখা হয়,প্রাথমিক বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বে দেখা হয় শারিরীক সক্ষমতা এবং তৃতীয় পর্বে শিক্ষার্থীকে মাঠে পাঠানো হয়,সেখানে আবেদন অনুযায়ী নেওয়া হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা।প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী সময় সাত দিনের ক্যাম্পে ডাকা হয়।সপ্তাহব্যাপী অনুশীলনের পর নেওয়া হয় লিখিত পরীক্ষা।
১০০ নম্বরের পরীক্ষায় খেলা ৭০,লিখিত(বাংলা,ইংরেজী ও গণিত) ২০ এবং ক্রীড়াবিজ্ঞানে ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকে।
প্রাথমিক বাছাইঃ
- প্রাথমিক বাছাইয়ের দিন প্রার্থীদের অনলাইনে পূরন করা রেজিস্ট্রেশন ফরমের প্রিন্ট কপি এবং পরীক্ষা ফি বাবদ ২০০ টাকা পরিক্ষাকেন্দ্রে জমা দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
- প্রাথমিক বাছাইয়ের দিন শারিরীক যোগ্যতা এবং ডাক্তারি পরীক্ষা নেওয়া হবে।
- প্রাথমিক নির্বাচনের দিন নিজ নিজ খেলা অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে,এজন্য সবাইকে নিজ নিজ খেলা অনুযায়ী ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং পোশাক সঙ্গে আনতে হবে।
- একজন প্রার্থী অনলাইনে পৃথক পৃথক ফরম পূরণ করে (জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে) একাধিক ক্রীড়া বিভাগে পরীক্ষা দিতে পারবে।
- প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল বিকেএসপির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
চূড়ান্ত নির্বাচনঃ
- প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়ে তিন দিন থেকে সাত দিনের চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজন করা হবে,যার ফলাফল বিকেএসপির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।
- প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগদানের দিন দুই কপি রঙ্গিন ছবি (পাসপোর্ট সাইজ),জন্মনিবন্ধন,পিইসি এবং জেএসসি/জেডিসি সনদের সত্যায়িত কপি আনতে হবে।
- প্রশিক্ষণার্থীদের ক্যাম্পে যোগদানের দিন নিজ নিজ ক্রীড়া বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
- প্রার্থীকে যে শ্রেণীতে ভর্তির লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে,তার পূর্ববর্তী শ্রেণীর সিলেবাস অনু্যায়ী লিখিত পরীক্ষা (বাংলা,ইংরেজী,গণিত) নেওয়া হবে।
- ক্রীড়াবিজ্ঞান সংক্রান্ত ব্যবহারিক ও চূড়ান্ত ডাক্তারি পরীক্ষা গ্রহণের সময় বয়স প্রমাণের জন্য প্রশিক্ষণার্থীকে হাড় পরীক্ষা ( বোন টেস্ট) করতে হবে।
সুবিধাদিঃ
- প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশে প্রশিক্ষণ,অভ্যন্তরীণ ক্লাব,জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ রয়েছে।
- কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে।
- শিক্ষা বোর্ডের সিলেবাস অনু্যায়ী সাধারণ শিক্ষা,সম্পূর্ণ আবাসিক পরিবেশে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন,পুষ্টিকর খাবার এবং নৈতিক শিক্ষার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।
অ্যাকাডেমিক রুটিনঃ
সপ্তাহে ছয়দিন প্র্যাক্টিস এবং একাডেমিক পড়াশনা পড়াশোনা করতে হয়।সপ্তাহে তিন দিন সকালে এক ঘন্টা খেলার প্র্যাক্টিস শেষে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ঃ৩০ পর্যন্ত একাডেমিক পড়াশোনা।এরপর বিকাল ৩ঃ৩০ পর্যন্ত দুপুরের খাবার এবং বিশ্রাম।বিকাল ৩ঃ৩০ থেকে সন্ধ্যা অব্দি প্র্যাক্টিস শেষে রাতে আবার একাডেমিক পড়াশোনা।সকাল এবং বিকালের প্র্যাক্টিসের সময় শীত এবং গ্রীষ্মভেদে কিছুটা পরিবর্তন হয়ে থাকে।শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি।
বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা এবং কেন্দ্রঃ
- রংপুর বিভাগঃ এই বিভাগের প্রাথমিক নির্বাচনী হবে ০৩ এবং ০৪ ডিসেম্বর,বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র,বাঁশেরহাট,দিনাজপুরে।
- রাজশাহী বিভাগঃ ০৬ ডিসেম্বর,মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়াম,জেলা ক্রীড়া সংস্থা,রাজশাহী।
- চট্টগ্রাম বিভাগঃ আগামী ৫ এবং ৬ জানুয়ারি,বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র,সাগরিকা রোড,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।
- সিলেট বিভাগঃ আগামী ০৯ ডিসেম্বর,বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র,কল্পগ্রাম,বাইপাস,খাদিমনগর,সিলেট।
- বরিশাল বিভাগঃ আগামী ১৩ ডিসেম্বর।বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র,গড়িয়ালপাড়,বরিশাল।
- খুলনা বিভাগঃ আগামী ১৪ এবং ১৫ ডিসেম্বর।বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র,আফিল গেট,খুলনা।
- ময়মনসিংহ বিভাগঃ আগামী ০৭ ডিসেম্বর।বীরশ্রেষ্ঠ রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়াম,ময়মনসিংহ।
- ঢাকা বিভাগঃ আগামী ১৭ এবং ১৮ ডিসেম্বর।বিকেএসপি,জিরানী,আশুলিয়া,সাভার,ঢাকা।
বিকেএসপি তে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেনঃ bkspds.gov.bd/application
বাংলা
English
