বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ফুটবলে সবচেয়ে আলোচিত নাম শমিত সোম। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ১০ জুন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে তার অভিষেকের সম্ভাব্য মঞ্চ প্রস্তুত। আর তাকে ঘিরে ভক্ত-সমর্থকদের আগ্রহ আকাশচুম্বী। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে—কে এই শমিত সোম? কি ই বা তার পরিচয়?
তার পুরো নাম শমিত সোম। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯৭ সালে কানাডার এডমন্টনে বাংলাদেশি হিন্দু পিতা-মাতার ঘরে। যদিও তার বাবা-মা দুজনেই সিলেটি বংশোদ্ভূত। খেলাধুলার প্রতি তার ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই। মাত্র ৬ বছর বয়সে অর্থাৎ ২০০৩ সালে তিনি ভর্তি হন এডমন্টন সাউথওয়েস্ট ইউনাইটেড একাডেমিতে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার ফুটবলের হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান। নিজ একাডেমির হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নজরে আসতে থাকেন কানাডার ফুটবল মহলে। এই ধারাবাহিকতা তাকে নিয়ে যায় আরও একধাপ ওপরে। ২০১৪ সালে তিনি ডাক পান কানাডার অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় দলের ক্যাম্পে। এই ক্যাম্পে তিনি গড়েন একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। শমিত ছিলেন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত খেলোয়াড়। যিনি সে বয়সে জাতীয় পর্যায়ের ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছিলেন। এটি শুধু তার প্রতিভারই নয়, বরং একাগ্রতা ও অধ্যবসায়েরও অনন্য উদাহরণ। বর্তমানে তিনি কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্যাভালরি এফসির মূল দলের মিডফিল্ডার হিসেবে খেলছেন।
তবে শমিত শুধুমাত্র একজন ফুটবলার নন। তিনি একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারও। খেলাধুলার প্রতি গভীর অনুরাগের মাঝেও তিনি শিক্ষা থেকে কখনও বিচ্যুত হননি। ২০১৫ সালে তিনি ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টাতে। যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের হয়ে নিয়মিত খেলতেন। সেখানেই তার প্রতিভার বিস্ফোরণ ঘটে। মাত্র ১২টি ম্যাচে করেন ৬টি গোল। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তিনি অর্জন করেন CWUAA (Canada West Universities Athletic Association) রুকি অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার। এই অর্জন কেবল তার ফুটবল দক্ষতার স্বীকৃতি নয়, বরং শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও সমান সফল হওয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সে বছরই অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে শমিত সোম অর্জন করেন ‘কানাডার সেরা তরুণ ফুটবলারের খেতাব’। এই সম্মাননা যেন তার ফুটবল জীবনের দরজাটি পুরোপুরি খুলে দেয়।
এরপরই শুরু হয় তার পেশাদার ফুটবলের যাত্রা। ২০১৬ সালে, শৈশবের ক্লাব এফসি এডমন্টনের সঙ্গে তিনি পেশাদার চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ সময় থেকেই তার পারফরম্যান্স আরও ধারালো হতে থাকে এবং তিনি নজরে আসেন উচ্চ পর্যায়ের ক্লাবগুলোর। এর ধারাবাহিকতায়, ২০১৭ সালে, তিনি সুযোগ পান মেজর লিগ সকার (MLS) এর ক্লাব মন্ট্রিল ইমপ্যাক্ট-এ। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারে একটি বড় মাইলফলক। এখান থেকেই মূলত তার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের দরজা খুলে যায়। অবশেষে, ২০২০ সালে, শমিত সোম অভিষেক করেন কানাডা জাতীয় দলের হয়ে। এখন পর্যন্ত তিনি দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে কানাডার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বর্তমানে তিনি খেলছেন কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্যাভালরি এফসি-তে। যেখানে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার হিসেবে নিয়মিত পারফর্ম করছেন।
এবার দেখব শমিত সোম যেভাবে হলেন বাংলাদেশের-
দীর্ঘ অপেক্ষার পর শমিত সোমের বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন একেবারেই বাস্তব দুয়ারে। ২০ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের জন্মসনদ গ্রহণ করেন। এরপর ১ মে কানাডা সরকারের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন No Objection Certificate (NOC) যা ছিল দেশের হয়ে খেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। ৪ মে তার হাতে আসে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। আর সবশেষে ৬ মে পান সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সেই অনুমোদন ফিফা কর্তৃক চূড়ান্ত ছাড়পত্র। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্বের সকল আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণতা পায়। সব ঠিক থাকলে আগামী ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ দলের হয়ে অভিষেক হবে এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডারের। এ ম্যাচের মধ্য দিয়েই শমিত সোম হয়ে উঠতে পারেন দেশের নতুন ফুটবল আইকন।
বাংলা
English
