বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
পৃথিবীর অসংখ্য ব্যায়ামের মধ্যে সাঁতারকে বলা হয় সেরা ব্যায়াম। একসময় নদী-খাল-বিলেই ছিল গ্রামবাংলার খেলার মাঠ, আর সাঁতার ছিল প্রতিটি শিশুর সহজাত দক্ষতা। কিন্তু আধুনিক শহুরে জীবনে কর্মব্যস্ততার কারণে এখন সাঁতার জানা মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমছে। অথচ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাঁতার শেখাটা শুধু উপকারী নয়, বরং অত্যন্ত জরুরি। সাঁতার জানলে যেমন পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমে, তেমনি এটি পুরো শরীরকে সক্রিয় ও ফিট রাখে। শিশুদের নিরাপত্তার জন্যও সাঁতার শেখা জরুরি।
সাঁতার সাধারণত পাঁচ ধরনের
- মুক্ত সাঁতার (Freestyle)
- চিত সাঁতার (Backstroke)
- বুক সাঁতার (Breaststroke)
- প্রজাপতি সাঁতার (Butterfly Stroke)
- পার্শ্বসাঁতার (Sidestroke)
এর মধ্যে ব্যায়াম হিসেবে সবচেয়ে কার্যকর হলো মুক্ত সাঁতার, চিত সাঁতার ও বুক সাঁতার।
সাঁতারের উপকারিতা
- হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়- প্রতিদিন মাত্র ২০–৩০ মিনিট সাঁতার কাটলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি ৩০–৪০% পর্যন্ত কমে যায়। একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে থাকে উচ্চ রক্তচাপও।
- পুরো শরীরের ব্যায়াম- সাঁতারের সময় শরীরের প্রতিটি পেশি একসাথে কাজ করে। পানি বাতাসের তুলনায় ১২ গুণ বেশি প্রতিরোধ দেয়, ফলে শারীরিক সামর্থ্য ও সহনশীলতা বেড়ে যায়।
- রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে- শরীরের প্রতিটি অংশে রক্ত চলাচল বাড়ায়, অক্সিজেনের সরবরাহ উন্নত হয় এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- মানসিক চাপ কমায়- সাঁতার কাটলে শরীরে এন্ডরফিন হরমোন তৈরি হয় যা উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে প্রফুল্ল রাখে।
- অস্থি-সন্ধির ব্যথায় উপকারী- আর্থ্রাইটিস বা হাঁটু–পায়ের ব্যথায় যারা ব্যায়াম করতে পারেন না, তাদের জন্য সাঁতার একদম উপযুক্ত। এটি অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা ও আড়ষ্টতা কমাতে সহায়তা করে।
- ওজন ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আনে- নিয়মিত সাঁতার কাটলে অতিরিক্ত ওজন কমে যায়। খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমে, আর ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ে।
- ঘুমের উন্নতি ঘটায়- বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই অনিদ্রায় ভোগেন। নিয়মিত সাঁতার ইনসমনিয়ার মতো সমস্যায় কার্যকর ভূমিকা রাখে, ফলে ঘুম হয় প্রশান্তিময়।
সাঁতারের কিছু সতর্কতা
যতই উপকারী হোক, সাঁতার কাটার সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
- অতিরিক্ত ক্লান্ত অবস্থায়, ঠান্ডা-জ্বর হলে বা প্রচণ্ড গরম থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে সাঁতার কাটবেন না।
- সাঁতার কাটার সময় মুখে খাবার রাখবেন না। এতে শ্বাসরোধ বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
- রাতে সাঁতার কাটলে সবসময় আলোকিত জায়গা বেছে নিন।
- ঝড়-বৃষ্টির সময় বা বজ্রপাত হলে সাঁতার থেকে বিরত থাকুন।
- লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলুন।
- চর্মরোগ বা সোরিয়াসিস থাকলে সুইমিং পুলে সাঁতার না করাই ভালো।
সাঁতার শুধু ব্যায়াম নয়, এটি একটি জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা। শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য রক্ষায় সাঁতারের কোনো বিকল্প নেই। তাই আজই শুরু করুন সাঁতার শেখা, আর প্রতিদিন কয়েক মিনিট পানির সাথে কাটিয়ে নিন সুস্থ, প্রশান্ত একটি জীবন।
ঢাকায় যেখানে সাঁতার শিখবেন- https://surl.li/opctbv
বাংলা
English
