বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
ফুটবল খেলার বিভিন্ন কলাকৌশল
ফুটবল খেলার কলাকৌশল অনেকগুলি রয়েছে, যা খেলোয়াড়দের সাহায্য করে তাদের খেলার দক্ষতা এবং দক্ষতা উন্নত করতে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল খেলার কলাকৌশল নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
ফলস নাইন:
ফলস নাইন হল সেই ধরনের ফুটবলার যারা পুরোপুরি স্ট্রাইকার নয়।নয় নম্বর জার্সি সাধারণত সেন্টার ফরোয়ার্ডরা পরে থাকেন। এই সিস্টেমে মিডফিল্ডাররা নির্দিষ্ট কোনও ফুটবলারকে লক্ষ্য করে বল বাড়ায় না। আক্রমণে ওঠে নিজেরাই। ১৯৩০ সালে প্রথম ফলস নাইনের ব্যবহার করে অস্ট্রিয়া।
২০০৭ সালে প্রথম ফলস নাইনের সফল ব্যবহার করেন রোমা কোচ। ফ্রান্সিসকো টোট্টিকে ওই পজিশনে খেলিয়ে ব্যাপক সাফল্য পান। তবে সবচেয়ে সফল ভাবে ফলস নাইন প্রয়োগ করেন পেপ গার্দিওলা।মেসিকে ওই পজিশনে ব্যবহার করে একাধিক ট্রফি জেতে বার্সা।
ইনভার্টেড উইঙ্গারঃ
এই পদ্ধতিতে দুর্বল পায়ের ফুটবলারকে সেই দিকের উইং এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।অর্থাথ ডান পায়ের ফুটবলারকে খেলানো হয় লেফ্ট উইঙ্গার হিসাবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তি দেওয়া হয়, ওই উইঙ্গারের কাট করে ঢুকতে সুবিধা হয়। যার ফলে গোল করতে সুবিধা হয়। এই পদ্ধতিতে দুই বিশ্বসেরা টিম খেলে সাফল্য পেয়েছে। এক, বায়ার্ন মিউনিখ এবং দুই, রিয়াল মাদ্রিদ।
মিডফিল্ড শাটলার:
মিডফিল্ড শাটলারের প্রধান কাজ ডিফেন্স এবং আক্রমণের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা। সময় বুঝে আক্রমণ এবং ডিফেন্সকে সাহায্য করে এই পজিশনের ফুটবলাররা। এর জন্য প্রচণ্ড গতির ফুটবলার প্রয়োজন। তিন মিডফিল্ডার ফর্মেশনে এক জন এবং ডায়মন্ড সিস্টেমে ৪ মিডফিল্ডার ফর্মেশনে দু’জন মিডফিল্ড শাটলার থাকে।
সেন্ট্রাল উইঙ্গার বা ফলস টেন:
চিরাচরিত ১০ নম্বরের প্লেমেকার পজিশনে খেলেন না এরা।সামনে থাকা সেন্টার ফরোয়ার্ডকে বল বাড়ানোর বদলে এরা বল পেলে উইং দিয়ে খেলা তৈরির চেষ্টা করে। এর ফলে আক্রমণের জোর বাড়ে। ইন্টার মিলানে থাকার সময়ে ওয়েসলি স্নেইডারকে এই পজিশনে খেলিয়ে সাফল্য পান হোসে মোরিনহো।
রেজিস্টাঃ
এই পজিশনের ফুটবলারকে বলা হয় ডিপ লাইং প্লেমেকার।ইতালিয়ান ফুটবলে এই পজিশনকে বলা হয় ডিরেক্টর।অর্থাৎ তিনিই খেলা পরিচালনা করবেন।এই পজিশনের ফুটবলারকে প্রচন্ড গতিশীল না হলেও চলবে।তাঁর কাছ থেকে অসাধারণ গেম রিডিং সেন্স এবং পাস দেওয়ার ক্ষমতা আশা করে।
ফরোয়ার্ড ডেস্ট্রয়ার:
রেজিস্টাদের প্রভাব কাটাতে ফরোয়ার্ড ডেস্ট্রয়ারদের ব্যবহার শুরু করেন কোচেরা। আসলে এরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার যারা আক্রমণে ওঠেন।
ক্যাটানেচ্চিও:
ইতালীয় ভাষায় এই শব্দের মোটামুটি অর্থ দরজা বন্ধ করে রাখা।ঘর আগলে আক্রমণে যাওয়া কোচেরা এই পদ্ধতিতে দল সাজতে পছন্দ করেন।৫-৪-১ এর এই ফর্মেশনের মূল লক্ষ্য থাকে কোনও ভাবেই গোল না খাওয়ার। এই পদ্ধতির প্রাচীনতম প্রমাণ মেলে ১৯৩০ সালে।পরে তা বিপুল জনপ্রিয়তা পায় ১৯৬০ সালে ইন্টার মিলানের হাত ধরে। ইতালি বহু ম্যাচ এই পদ্ধতিতে খেলে জিতেছে।
টিকিটাকা:
বার্সেলোনা তথা স্পেনের একেবারে ঘরের সম্পত্তি টিকিটাকা।এই ফর্মেশনের মূল মন্ত্র হল ছোট ছোট পাস খেলে যতটা সম্ভব বল পজেশন বেশি রাখা। বল না পেয়ে ভুল করতে বাধ্য হয় বিপক্ষ। জোহান ক্রইফ বার্সায় এই পদ্ধতির প্রথম সফল প্রয়োগ করেন।পরে তা স্পেনের জাতীয় দলে নিয়ে আসেন দেল বস্ক এবং এই টিকিটাকা দিয়েই প্রথম বিশ্বকাপ জিতে স্পেন।
জোনাল মার্কিং:
এই পদ্ধতিতে কোনও এক জন নির্দিষ্ট ফুটবলারকে বিপক্ষের নির্দিষ্ট কোনও এক জনকে মার্ক করার দায়িত্ব দেওয়া হয় না। বদলে প্রতি ফুটবলারকে একটি জোন বা অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিপক্ষের কোনও ফুটবলার ওই অঞ্চলে এলে সেই অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা ফুটবলারের দায়িত্ব তাঁকে মার্ক করার।
রউলেট:
ফুটবলের অন্যতম দর্শনীয় ড্রিবলিং রউলেট আসলে বলকে নিয়ন্ত্রণে রেখে এক পাক ঘুরে বিপক্ষকে চমকে দেওয়ার কৌশল। রউলেটের প্রথম সফল ব্যবহার করেন মাইকেল লাউড্রপ। পরে দিয়েগো মারাদোনা থেকে জিনেদিন জিদান, থিয়েরি অঁরি থেকে হালের মেসি বহু বার রউলেট প্রয়োগ করেছেন। এই মুভকে মার্সেইলও বলা হয়ে থাকে।
রাবোনা:
এই মুভে ফুটবলার বলে শট নেন একটা পায়ের পিছনে অন্য পা থাকা অবস্থায়। এই কঠিন শট ফুটবলার তখনই নেন যখন তিনি বোঝেন বলটি তাঁর দুর্বল পায়ের দিকে রয়েছে।ডিফেন্সকে বোকা বানাতেও এই শট নেওয়া হয়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বা গ্যারেথ বেলরা রাবোনা নিয়েছেন বহু বার।
ইলাস্টিকো:
ইলাস্টিকো এক ধরনের ফ্লিপ ফ্লপ পদ্ধতি যা দিয়ে ডিফেন্ডারদের বোকা বানানো হয়। ডিফেন্ডার যখন ভাবছে বল পাস করা হবে, তখনই এক পা থেকে অন্য পায়ে বল নিয়ে ডিফেন্ডারকে ধোঁকা দেওয়া হয়। ১৯৭০ সালে সের্জিও এজিগো প্রথম এই মুভ প্রয়োগ করেন। এখন এই মুভ তারকা ফুটবলারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।
বাংলা
English
