ক্রিকেটের ভিন্ন ভিন্ন শট পর্ব-২
ক্রিকেটের ভিন্ন ভিন্ন শট পর্ব-২

দিল স্কুপ ডগলাস ম্যারিলিয়ার রাগ করতেই পারেন। এই শটটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তিনিই, অথচ সেটার নাম হয়ে গেল তিলকরত্নে দিলশানের নামে! ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলার সময় ম্যারিলিয়ারই দেখিয়েছিলেন কীভাবে ব্যাটকে চামচের মতো ব্যবহার করে ইয়র্কার লেংথের বলগুলোকে উইকেটের পেছন দিকে মাঠ ছাড়া করতে হয়। এটি কাজে লাগিয়ে ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাকানিচুবানি খাইয়েছিলেন আশরাফুল। এ দুজন এই শটগুলোর অধিকাংশই খেলতেন ফাইন লেগ দিয়ে। দিলশানই প্রথম এই শট খেলতে শুরু করলেন উইকেটের দুই পাশে। শটটিতে এমনই নিজস্বতা যোগ করলেন, ‘প্যাডল স্কুপ’ নামটা পরিবর্তিত হয়ে শটের নামই হয়ে গেল ‘দিল স্কুপ’।

কীভাবে খেলবেন: বোলারকে ইয়র্কার কিংবা ফুল লেংথের বল করতে দেখলেই সামনে ঝুঁকে যেতে হবে। তারপর ব্যাটটা কোনাকুনি করে চামচের মতো পেতে দিলেই হলো। ব্যস, গতিই বলকে পাঠিয়ে দেবে সীমানার বাইরে।

সতর্কতা: এই শটে টাইমিংয়ের একটু ভুল হলেই আউট হওয়ার ষোলো আনা সম্ভাবনা। প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই শট খেলতে গিয়েই বিশ্বকাপটা হাতছাড়া করলেন মিসবাহ-উল-হক। তবে এতে ব্যাটের কানায় লেগে বল চোখে লাগার, কিংবা শট মিস করে হাস্যাস্পদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকেই।

পেরিস্কোপ এই শটের স্বত্বাধিকারী সৌম্য সরকার। শরীর তাক করা বাউন্সার ছেড়ে না দিয়ে উল্টো কীভাবে চার-ছক্কা পেতে হয় তার সেরা উদাহরণ এই শট। ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে খেলার জন্য এর কাছাকাছি একটি শট খেলতেন, কিন্তু সেটি অনেকটা ‘আপার কাটের পরিবর্তিত রূপ ছিল। কিন্তু সৌম্য এই শটটি একেবারেই নিজস্ব ঢঙে খেলে নিজের করে নিয়েছেন।

কীভাবে খেলবেন: বোলার শর্ট বল করলে কিংবা বাউন্সার ছাড়লে না বসে শরীরের উর্ধ্বাংশ পেছনের দিকে হেলিয়ে দিন। বলটি আপনাকে অতিক্রম করে ক্রিজ পার করার আগ মুহূর্তে আলতো করে ব্যাটের ছোঁয়া দিলেই কাজ হয়ে গেল।

সতর্কতা: ভারসাম্য হারিয়ে উইকেটে ডিগবাজি খেতে পারেন। আর মিস টাইমিংয়ে উইকেটকিপার কিংবা স্লিপে ক্যাচ তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তো আছেই। .

সুইচ হিট এই শট খেলা মানেই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের পুরো স্টান্স পরিবর্তন করে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বনে যাওয়া কিংবা বাঁহাতি থেকে ডান হাতি বনে যাওয়া। রিভার্স সুইপে শুধু কবজি ঘুরিয়েই কাজ সেরে নেওয়া হয় কিন্তু সুইচ হিটে পুরো শরীরকেই ব্যবহার করতে হয়। কেভিন পিটারসেনই প্রথম সফলভাবে এর প্রয়োগ দেখিয়েছিলেন। মুত্তিয়া মুরালিধরনকে মারা তার সুইচ হিটের ছক্কাগুলো সবারই মনে থাকার কথা। পিটারসেনের পর সুইচ হিটে সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

কীভাবে খেলবেন: স্পিনারদের বিপক্ষে খেলতে হবে এটি। বোলার বল করা ঠিক সঙ্গে সঙ্গে পুরো শরীর ঘুরিয়ে নিতে হবে, ব্যাটের গ্রিপটাও পরিবর্তন করে নিতে এইটুকু সময়ের মধ্যেই। বল নাগালের সঙ্গে সঙ্গে সজোরে ব্যাট চালান আর আশা করতে থাকুন ফিল্ডারের হাতে বল না যাওয়ার।

সতর্কতা: এই শট খেলে মিস করার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন উচ্চাভিলাষী শট খেলে আউট হওয়ার ঝুঁকি না নেওয়াটাই ভালো। ’

This platform is proudly developed and supported by Trenza Softwares