বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
ফুট-ওয়ার্ক
শুধুমাত্র ব্যাটসম্যানদের সুষ্ঠ পদচারণ বা ফুট-ওয়ার্কের জন্য তাদের ব্যাটিং দেখে মনে হয় যে, ব্যাটিং করা তেমন শক্ত কিছু না। কিন্তু ভুল ফুট-ওয়ার্কের দরুণ নিতান্ত সোজা বল খেলতেই হয়তো ব্যাটসম্যান হিমসীম খাচ্ছেন। তবে শুধু ফুটওয়ার্ক হলেই চলবে না, ফুট-ওয়ার্ক বোলারের বলের গতি অনুযায়ী হতে হবে এবং বল বিচার বা বাছাই ঠিক করে করতে হবে। বলের গতির সঙ্গে ব্যাটসম্যানের ফুট-ওয়ার্কও হবে নিস্ফল।
ফুট ওয়ার্কে ব্যাটসম্যান ধীর হলেও বিপদ আবার তাড়াহুড়াতেও বিপদ । সেজন্য ফুট-ওয়ার্কের সঙ্গে সঠিক সময় বা টাইমিংয়ের বনা চাই। তরুণ শিক্ষার্থীদের অন্তত নিয়মিতভাবে স্কিপিং করা উচিত, তার ফলে পায়ের জড়তা কেটে যাবে, ইচ্ছে মতো দু'টি পা ক্ষিপ্র গতিতে নাড়াচাড়া করার বিশেষ সুবিধা হবে।
ডিফেন্সিভ বা আত্মরক্ষামূলক খেলা
ব্যাটিংয়ে সফলতা লাভ করতে হলে ডিফেন্স বা আত্মরক্ষামূলক খেলা খেলতে জানতে হবে। ক্রিকেট খেলাতে সবগুলো বলে পিটিয়ে খেলা যায় না। আর ভাল বোলারের হাতে পড়লে পিটাবার মত বল পাওয়াও কঠিন। সেজন্যই যে বলগুলো পিটানো যাবে না সে গুলোকে ঠেকাতে হবে, না হলে আউট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ডিফেন্স দু'রকমভাবে করা যায়, ফরোয়ার্ড ডিফেন্স বা বল পিচ পড়ার পর স্টাম্পের দিকে পিছিয়ে গিয়ে বলটি খেলা বা ঠেকান।
ফরওয়ার্ড ডিফেন্সিভ
ফরওয়ার্ড ডিফেন্সিভ খেলতে হলে বলের লাইনের দিকে বা কাঁধ ও কনুই, তার সঙ্গে ব্যাটসম্যানের শরীর, ব্যাট এবং বা পা এগিয়ে নিয়ে, বলের উপর তীর্যক দৃষ্টি রেখে, মাথা স্বাভাবিকভাবে নিচু রেখে বলটি খেলতে হবে। এই সময় ব্যাট হতে হবে একদম পারপেনডিকুলার, ব্যাটের হ্যান্ডেল এগিয়ে ও ব্লেড ব্যাটসম্যানের শরীরের দিকে পিছিয়ে, যাতে বলটি ব্যাটে লেগে মাটিতে পরে, না হলে ক্যাচ উঠার সম্ভাবনা থাকে। বল খেলার সময় ব্যাট বা প্যাডের সামান্য এগিয়ে থাকবে, কিন্তু ব্যাট ও প্যাডের মধ্যে যেন কোন ফাঁক না থাকে সে দিকে সতর্ক হতে হবে। ফরোয়ার্ড ডিফেন্সিভ খেলার উপরে হাত বা বাঁ হাত ব্যাটের দিক নির্ণয় কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র। নিচের হাত বা ডান হাতের গ্রিপই বেশি কাজ করে। বাঁ হাতের মুঠিটা বেশ শক্তভাবে থাকবে আর ডান হাতের মুঠিটা ঢিলাভাবে। ডান হাতে ব্যাট ধরার কাজটি শুধুমাত্র বুড়ো আঙ্গুল ও অন্য দুটি আঙ্গুল দ্বারা ধরা হবে। বলটি যখন ব্যাটে লাগছে তখন ব্যাটটি সোজা অবস্থায় থাকবে কিন্তু ব্যাটের হ্যান্ডেলের তুলনায় নিচের অংশটা মাটির দিকে একটু কাতভাবে হেলে থাকবে। ব্যাটকে অল্প ব্যাক লিফট দিয়ে নামিয়ে তোমার টো (Toe) সামনে, এমনভাবে রাখো যাতে বলটি পিচ খাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটের ব্লেড লেগে নিশ্চল হয়ে মাটিতে পরে। চোখ দ্বারা বলের উপর নজর রাখো।
ব্রাডম্যানের ভাষায় "কোন বলে যে কোন ডিফেন্সিভ স্ট্রোক' (মারটা) দেবে এর কোন বাঁধা ধরা নিয়ম নেই। তবে আমি নিজেই একটা উপায় আবিষ্কার করেছি এবং আমায় প্রকৃত পরিমাণে সাহায্যও করেছে। নিয়মটা এই, যখন আমি বুঝি একটা বল উঁচু দিয়ে আসছে এবং আমি বলের মধ্যে যে ব্রেক আছে সেটাকে নষ্ট করে দিতে পারবো, তখন আমি এগিয়ে যাই! আর যতক্ষণ আমি স্থির নিশ্চিত হতে পারি না যে ব্রেকটাকে আমি নষ্ট করতে পারবো কিনা তখন পেছিয়ে খেলি। আমি একটু বেটে বলে এগিয়ে খেলবার সৌভাগ্য আমার খুব কমই হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পিছিয়ে খেলতে হয়। কিন্তু একজন লম্বা লোক পিছিয়ে খেলার চেয়ে এগিয়ে খেলার সুযোগ সুবিধা বেশি পায়, কারণ সে লম্বা হওয়ার সুবিধাটা পাচ্ছে। যখন এগিয়ে খেলছে তখন সব সময় 'স্ট্রেট ব্যাটে' খেলবে এবং বলটা যখন ব্যাটের কাছে সমান্তরালভাবে আসবে তখন বলটা মারবে। ব্যাটটি বলের সঙ্গে একেবারে পুরোপুরি সমান্তরাল হওয়ার আগেই যদি মারো তাহলে বলটা আকাশে উঠে যাবে এবং এতে ক্যাচ আউট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এগিয়ে খেলতে যাবার সময় স্বাভাবিকভাবেই তোমার ডান পা টা আগিয়ে আসবে কিন্তু বা পা'টা একটুও নড়বে না । পিছিয়ে খেলতে গেলেও জিনিসটা অনেকটা ঐ রকমই হবে, তবে ব্যাটটা বলের সঙ্গে আরও সমান্তরাল হবে, এতে অবশ্য পদাচারণ একটু বেশি হয়। ডান পা কে পেরিয়ে এনে উইকেটের সামনে রাখা বাঁ পা টাও এমনভাবে উইকেটের সামনে এনে রাখো যেন দুটো প্যাড প্রায় ছুঁয়ে যায় এবং তারপর তোমার ব্যাটটা প্যাডের সামনে এনে বলটা আটকাও।”
ফরওয়ার্ড ডিফেন্সিভ খেলায় তিনটি কথা মনে রাখতে হবে। ব্যাট আর প্যাডের মধ্যে কোন ফাঁক থাকবে না, পিছনের পা পপিং ক্রীজের ভিতরে শক্ত করে গেঁথে রাখতে ভবে, বলটি খেলার সময় মারের পিছনে মোটেই জোর থাকবে না, ফলো-প্রো তো নয়ই। মার অবশ্যই বলের পিচ-এর ৫-৬ ইঞ্চির মধ্যে ব্যাট এগুতে হবে, ৫-৬ ইঞ্চির ভিতর বল টার্ন ব্রেক বা সুইং করলেও ব্যাটের বুকের মাঝামাঝি বল লাগবে, বলের দূরত্ব তার বেশি হলে এবং বল টার্ন ব্রেক সুইং করলে ব্যাটের কোণায় লেগে বা অন্যভাবে আউট বার বিশেষ সম্ভাবনা থাকে।
ব্যাক-প্লে ডিফেনসিভ
ফরওয়ার্ড ডিফেন্স এর মতো ব্যাক প্লে ডিফেন্সের সময় ব্যাট সোজা রেখে বলে লাগাতে হবে। বলটি যখন ব্যাটটিতে লাগবে তখন ব্যাটটি থাকবে পুরোপুরি একটি লম্ব। যে বলগুলো ব্যাটসম্যানের নিকট হতে বেশ দূরে পিচ খায়,সেগুলো ব্যাটসম্যান আগে বেড়ে স্ট্রেট ব্যাট ধরে ঠেকাতে পারে না। এই ধরনের বল ঠেকাতে ব্যাটসম্যান সামনের দিকে না এগিয়ে পিছনের দিকে পেরিয়ে যায়। এতে করে বলটি ব্যাটে লাগানোর ব্যাপারে বেশ কিছুটা সময় পাওয়া যায় এবং বলের বাঁকানোর ধরণ অনুযায়ী ব্যাট দিয়ে বলটা ঠেকাতে সুবিধা হয়।
ব্যাক খেলার বল ঠিকমত বাছাই করে,ব্যাটসম্যানের সচেষ্ট হওয়া উচিত যাতে ব্যাটের ব্যাক লিফট যথাসম্ভব সোজা হয়, ব্যাট নামাবার সময় ডান পায়ের প্যাড ঘেষে থাকে, সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য ডান পা বলের লাইনের পিছনে স্টাম্পের দিকে পিছিয়ে নিতে হবে, ডান পায়ে শরীরের বেশি ওজন ভর করে, বাম পা ডান পায়ের পাশে রেখে উইকেট সম্পূর্ণভাবে ঢেকে বা আড়াল করে থাকে। ব্যাটের সামান্য গতি থাকলে বল ব্যাটে লেগে কাছাকাছি ক্যাচ ওঠার আশঙ্কা থাকে।
ডন ব্রাডমানের কথায় "বলটা যখন পিচ খেলো তখন তোমার প্যাড আর বলটা যেন সমকোণে থাকে। এইভাবে পেরিয়ে খেলার সময় ব্যাটটা যদি হাতে আলগা করে ধরা থাকে তবে তাকে ডেড ব্যাট (নিস্তেজ) বলে। আলগা করে ব্যাটটা ধরা থাকলে, বলটা জোরে প্রতিহত হয়ে জোরে ফিরে আসবার মত কোন শক্তি পায় না। সুতরাং তৎক্ষণাৎ মাটিতে পড়ে যায়।"
ব্যাক ডিফেন্সিভ খেলাতে ডান পা পিছিয়ে উইকেটের সামনে বল যে লাইনে আছে সে লাইনে নিয়ে আসা। এই সময় দেহের সমস্ত ভারটা ডান পায়ে রাখা আর স্ট্রেট ব্যাটে বল লাগানোই হল প্রয়োজনীয় কৌশল। ব্যাক খেলার সাধারণ ত্রুটিগুলোর মাধ্যে পপিং ক্রীজের উপরই দাঁড়িয়ে খেলা; যত বেশি সময় বলটা দেখা যায় ততই ব্যাটসম্যানের ভুল হবার ভয় কম, বল এবং স্টাম্পের দিকে পিছনে দেড় দু'ফুট যাওয়া কম সুবিধার কথা নয়। ডান পা পিছিয়ে নেবার সঙ্গে সঙ্গে বাঁ পা দিয়ে উইকেট সম্পূর্ণ কভার না করা যার ফলে বেশি টার্ণ বা সুইং করলে বোল্ড হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা। যেখানে রান পাবার কোন সম্ভাবনা নেই সম্পূর্ণ ডিফেন্সিভ ব্যাক খেলা, সে ক্ষেত্রে ব্যাটে বলে ঠোকাঠুকির সময় অমনোযোগিতা বা অন্য কোন কারণে ব্যাটের ফলো থ্রু বা বলটি খেলার সময় ব্যাট সামনের দিকে ঠেলার সাধারণ স্ট্রোক রোধ না করা। স্ট্রোক ত্রুটিহীন করতে হলে আয়নার সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা প্র্যাকটিস করতে হবে।
বাংলা
English
