বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
২০২৩ জানুয়ারি, বিগ ব্যাশ লিগে ব্রিসবেন হিট ও সিডনি সিক্সারসের মধ্যে খেলা চলাকালীন সময়ে মাইকেল নেসারের বিতর্কিত ক্যাচ নিয়ে তুলকালাম ক্রিকেট পাড়া।
মার্ক স্টিকেটির বলে লং অফ দিয়ে জর্ডন সিল্কের বল যখন প্রায় তিন মিটার সীমানা অতিক্রম করে ফেলেছে ঠিক সেই মুহূর্তে নেসার শূন্যে লাফিয়ে বলটি তালুবন্দী করেন।
এবং আম্পায়ার এটিকে ক্যাচ আউট ঘোষণার সিদ্ধান্তের পরপরই আউট টি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়ে।
শেষমেশ আইসিসি এবং এমসিসি কর্তৃক এই ক্যাচের ক্ষেত্রে কি ব্যাখ্যা বা নিয়ম তা স্পষ্ট করে।
আসলে বাউন্ডারির ভিতর থেকে (বাইরে পা না দিয়ে) যদি বলে প্রথমবার হাত ছোঁয়ান ফিল্ডার, তবে তিনি শূন্য থাকা অবস্থায় মাঠের বাইরেও পুনরায় বলে হাত ছোঁয়াতে পারেন এবং বাউন্ডারির ভিতরে এসে ক্যাচ সম্পূর্ণ করতে পারবেন। অর্থাৎ, প্রথমবার বল ছোঁয়ার সময় বাউন্ডারির ভিতরে থাকতে হবে। শেষবার বল ধরার সময়েও বাউন্ডারির ভিতরে থাকতে হবে ফিল্ডারকে। মাঝের সময়ে ফিল্ডার বাউন্ডারির বাইরে চলে গেলেও একই সঙ্গে বল ও মাটি না ছুঁলেই চলবে।
ক্যাচ আউটের ক্ষেত্রে ২০২২ সালের ১ অক্টোবর থেকে প্রণীত আরেকটি নিয়ম
যদি লোয়ার অর্ডারের কোনো ব্যাটসম্যান বল সরাসরি বাউন্ডারি লাইন অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে বল হাঁকান এবং সে বল মাঠ অতিক্রম না করে বোলারের হাতে ক্যাচবন্দী হয় এবং সে সময়ে নন স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান স্ট্রাইক এন্ডে চলে আসেন তবে ক্যাচ আউটের পরে নতুন ব্যাটসম্যানই স্ট্রাইক নিবেন।
ক্রিকেটের পূর্বের নিয়ম ছিল ক্যাচ আউটের ক্ষেত্রে নন-স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান ২২ গজের অর্ধেক পেরিয়ে স্ট্রাইক প্রান্তে চলে গেলেই তিনিই স্ট্রাইক পেতেন।
যদি ইনিংসের শেষ বলও হয় নতুন ব্যাটসম্যানই যাবেন নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে।
ক্রিকেট খেলায় তিন ধরনের কট আউট দেখা যায়
ক. কট বাই দ্যা ফিল্ডার
খ.কট এন্ড বোল্ড
গ.কট বিহাইন্ড
কট বাই দ্যা ফিল্ডারঃ ব্যাটসম্যানের ব্যাট / গ্লাভস ছুঁয়ে বল মাটিতে স্পর্শ করার আগেই বোলার বা উইকেট রক্ষক ব্যতীত অন্য ফিল্ডার বলটি ধরলে
কট এন্ড বোল্ডঃ বোলার নিজে বল করার পর ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লেগে বল যদি বোলার কর্তৃক তালুবন্দী হয়,তবে কট এন্ড বোল্ড আউট নামে পরিচিত।
কট বিহাইন্ডঃ যদি উইকেট-রক্ষক ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন তাহলে তা অনানুষ্ঠানিক বা অলিখিতভাবে কট বিহাইন্ড বা কট এট দি উইকেট নামে পরিচিতি পায়।
ক্রিকেট খেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ ফিল্ডিং। আর ফিল্ডিং এর একটা গুরুত্বপূর্ণ ড্রিল হচ্ছে ক্যাচ প্র্যাক্টিস। বলা হয়ে থাকে ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস।
আপনি যদি ক্লাব/ডিভিশনাল কিংবা জাতীয় পর্যায়ে খেলতে চান,তাহলে আপনাকে অবশ্যই ক্যাচ ধরায় পারদর্শী হতে হবে। অর্থাৎ ক্যাচ ধরার স্কিল অর্জন করতে হবে,সেই সাথে স্কিল গুলো কে কাজে লাগাতে হবে যাতে খেলার সময় ক্যাচ মিস না হয়।ক্যাচ ধরার কিছু প্রাথমিক নিয়ম ফলো করলে একজন ফিল্ডারের জন্য ব্যাপার টা সহজ হয়ে যায়।
১)ভালো ফিল্ডার হওয়ার জন্য নিয়মিত ক্যাচ অনুশীলনের কোন বিকল্প নেই।
২)দ্বিতীয়ত মাথায় রাখতে হবে একজন ব্যাটসম্যান কি শট খেলছেন।সেই শট দেখেই বুঝতে হবে বল আপনার দিকে আসছে নাকি বলের উচ্চতা কতোটুকু গতি কেমন হতে পারে। এক্ষেত্রে মানসিক প্রস্তুতির একটা ব্যাপার থাকে।
৩)মাঠের যেকোনো প্রান্তেই একজন ফিল্ডারের তার শরীরের পজিশন ঠিক রাখতে হবে।৩০ গজের ভিতর ফিল্ডিং করলে একটু বেশি ই শার্প থাকা জরুরী।
৪)বলের গতি ও উচ্চতা অনুসারে শরীরের ব্যালান্স ঠিক রেখে বল তালুবন্দি করতে হবে।ক্যাচ ধরার পূর্বে হাতের তালু অবশ্যই খোলা রাখতে হবে নতুবা ক্যাচ মিসের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
৫)ক্যাচ ধরার সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো চোখ সর্বদা বলের উপর রাখতে হবে।চোখ সরালে ক্যাচ মিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।
৬)যারা শর্টে কিংবা স্লিপে ফিল্ডিং করেন তাদের বেশি করে এক হাতে ক্যাচ ধরা প্র্যাক্টিস করতে হবে।
৭)অনেক সময় ব্যাটার রা সিক্স মারতে গিয়ে মিস হিট করলে হাই বল ক্যাচের সুযোগ তৈরি হয়। এসময় ক্যাচ ধরার জন্য ফিল্ডারের উচিৎ বল নিচে পড়ার সম্ভাব্য অবস্থান বুঝে পজিশন নেওয়া।
৮)বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে ক্যাচ নেওয়ার সময় একজন ফিল্ডারের অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে বল হাতে থাকা অবস্থায় পা যাতে বাউন্ডারি লাইন টাচ না করে। সেক্ষেত্রে যদি ভারসাম্য বজায় রাখা পসিবল না হয় তবে ভারসাম্য হারিয়ে পা লেগে যাওয়ার আগ মুহুর্তে বল কাছাকাছি ফিল্ডারের দিকে ছুড়ে মারা যেতে পারে। কিংবা কাছাকাছি আর কেউ না থাকলে নিজেই উপরে ছুড়ে মেরে বাউন্ডারি লাইন থেকে মাঠে প্রবেশ করে লুফে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
৯)একি সময়ে দুইজন ফিল্ডার ক্যাচ ধরতে নিলে বল শূন্যে ভাসমান থাকা অবস্থায় একজনকে কল দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ন। সে সময় লিভ ইট বা আমার বলে অপর জন কে সতর্ক করে দেওয়া তা খুব গুরুত্বপূর্ন নতুবা ক্যাচ মিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
১০)ফিল্ডিং করার সময় এমন ভাবে পজিশন নিতে হবে যাতে ব্যাটার থেকে বল আসলে সেটা স্পষ্ট দেখা যায় ক্যাচ ধরার জন্য পূর্ণ মনোসংযোগ করা যায়।
একজন ফিল্ডারের এই ক্যাচ লুফে নেওয়াই হতে পারে একটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ তাইতো ব্যাটসম্যান কিংবা বোলার এর পাশাপাশি একজন ভালো ফিল্ডার হওয়া এবং ক্যাচ ধরার নিয়মিত অনুশীলনের কোন বিকল্প নেই।
বাংলা
English
