বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
প্রায় আট বছর অপেক্ষার পর আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসর। শুরুতে আইসিসি নকআউট ট্রফি নামে পরিচিত, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হল আইসিসির টুর্নামেন্ট যা ৫০ ওভার বা ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলা হয়।
এ টুর্নামেন্ট প্রথম চালু হয় ১৯৯৮ সালে। প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশে এবং দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল কেনিয়াতে। ক্রিকেটের প্রচার প্রসারের লক্ষ্যে আইসিসি সে সময়কার সহযোগী দেশগুলোতে আয়োজন করতো এ টুর্নামেন্ট।
তিন আন্তর্জাতিক ফরম্যাটের জন্য কেবল একটি করেই টুর্নামেন্ট থাকবে — আইসিসির এমন নীতির মুখে ২০১৭ সালের পর বন্ধ হয়ে যায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। তবে, ২০২১ সালে আইসিসি ফের এ ট্রফি আয়োজনের ঘোষণা দেয়। ২০২৯ সালে এ ট্রফিটি ইন্ডিয়াতে আয়োজন হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বছর টুর্নামেন্টটি ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবং পাকিস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে।
২০০৯ সালে শ্রীলংকা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর, নিরাপত্তা উদ্বেগের ফলে বহু বছর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ ছিল। ওই ঘটনার পর এটিই হতে চলেছে দেশটিতে আইসিসি’র প্রথম বৈশ্বিক আয়োজন।
করাচি, রাওয়ালপিন্ডি এবং লাহোরে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং সমস্ত মাঠ উল্লেখযোগ্য সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে, ভারত রয়েছে এমন ম্যাচ - সম্ভাব্য সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ – সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
আটটি দেশ দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ খেলবে, যা চলবে ২ মার্চ পর্যন্ত। একটি দল নিজের গ্রুপের বাকি তিন দলের সঙ্গে একটি করে ম্যাচ খেলবে। গ্রপের শীর্ষ দুটি দল যাবে সেমি ফাইনালে, যা ৪ এবং ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে করাচীতে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড।
এবারের আসরের ফাইনল হওয়ার কথা রয়েছে মার্চের ৯ তারিখ। তবে, ফাইনালের ভেনু তখনি নির্ধারন করা হবে যখন দুটি দল ফাইনাল নিশ্চিত করবে। ভারত ফাইনালে গেলে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে দুবাইতে। কিন্তু রোহিত শর্মার দল ফাইনালে না যেতে পারলে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে লাহোর গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কোন কোন দল খেলতে পারে?
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মোট ৮টি দল খেলতে পারে। আয়োজক দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অংশ নেয়। এ ছাড়া, সর্বশেষ আইসিসি আয়োজনের সেরা সাত দল সুযোগ পায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার। আর আয়োজক দেশ যদি সেরা সাত দলের মধ্যে থাকে, তবে আট নম্বর দল খেলার সুযোগ পায়, যেটি এবার বাংলাদেশের বেলায় ঘটেছে।
এ আসরের গ্রুপ ‘এ’-তে থাকছে পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘বি’ তে রয়েছে সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড।
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দলগুলোর স্কোয়াড ঘোষণা করার সুযোগ ছিল। ইনজুরির থাবায় এবারের আসরে খেলতে পারছেন না বেশ কিছু বড় তারকা। তাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স, পেইসার মিচেল স্টার্ক, ইন্ডিয়ার তারকা বোলার জাসপ্রিত বুমরাহসহ আরও অনেকে রয়েছেন।
ইন্ডিয়া কেন পাকিস্তান যাচ্ছে না?
২০০৮ সাল থেকে, দেশদুটির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে ইন্ডিয়া।
ইন্ডিয়ার ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই আইসিসিকে জানিয়েছিল এবারের টুর্নামেন্টের জন্যও তারা পাকিস্তানে যাবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ভারতের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্তের আগে বেশ কয়েক মাস ধরে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
এই চুক্তিটি অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান অথবা ভারতে অনুষ্ঠিত সব আইসিসি ইভেন্টের জন্য কার্যকর থাকবে, পুরুষ ও নারী উভয় দলের জন্যই। এর মধ্যে পাকিস্তানে হতে যাওয়া ২০২৮ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কোনো ইন্ডিয়ান আম্পায়ারও থাকছেন না।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার জন্য কারা ফেভারিট?
বুকমেকারদের মতে, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার জন্য ভারত ফেভারিট, তার ঠিক পরেই অস্ট্রেলিয়া।
আইসিসি ওডিআই র্যাংকিংয়ে দেশ দুটি প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হয় যেখানে অস্ট্রেলিয়া জেতে।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং এবং ভারতের সাবেক প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলেছেন, তাদের বাজি অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের ওপরেই।
বাংলা
English
