বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
বাস্কেটবল ব্যাসিকস
খেলার সময় ৪০ মিনিট। চারভাগে খেলা হয়। প্রতিভাগে ১০ মিনিট করে। ১ম ও ২য় পর্বের এবং ৩য় ও ৪র্থ পর্বের মাঝে বিরতি ২ মিনিট। খেলার মাঝে বিরতি ১৫ মিনিট। রেফারির সংকেতের পর ৫ সেকেন্ডের ভেতর বল থ্রো করতে হবে। ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় কেউ বল ধরে রাখতে পারবে না। বল ধরার পর ৫ সেকেন্ডের ভেতর বল ড্রিবল বা পাস করতে হবে। নিজেদের কোর্টে বল ৮ সেকেন্ড পর্যন্ত আয়ত্ত্বে রাখা যায়। ৮ সেকেন্ডের ভেতর বিপক্ষের কোর্টে বল নিতে হবে। একটি দলের সমস্ত খেলোয়াড় মিলে ২৪ সেকেন্ড পর্যন্ত বল আয়ত্ত্বে রাখতে পারবে। ৪০ মিনিটের খেলায় কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগত ও টেকনিক্যাল সর্বমোট ৫ টি ফাউল করলে তাকে অবশ্যই কোর্ট ত্যাগ করতে হবে। I
বাস্কেটবল খেলায় ৬.২৫ মিটার দাগের বাইরে থেকে স্কোর হলে ৩ পয়েন্ট। ৬.২৫ মিটার দাগের ভেতর থেকে স্কোর হলে ২ পয়েন্ট। ফ্রি থ্রো থেকে স্কোর ১ পয়েন্ট।
বাস্কেটবল খেলার কোর্ট শক্ত, সমতল আয়তক্ষেত্র বিশেষ। যার দৈর্ঘ্য 28 মিটার ও প্রস্থ 15 মিটার। মাটি থেকে বাস্কেটের উচ্চতা হয় 10 ফুট বা 3.05 মিটার। বাস্কেট বোর্ড কাঠ অথবা ফাইবার গ্লাসের হয়। বোর্ডের ওপর 0.59 মি লম্বা ও 0.45 মি চওড়া একটি আয়তক্ষেত্র থাকে। বাস্কেট রিং উক্ত আয়তক্ষেত্রের নিচে থেকে লাগান থাকে। রিং-এর ভেতরের ব্যাস 45 সেমি এবং রিং-এর ভেতর থেকে বাের্ডের দূরত্ব 15 সেমি।
বাস্কেটবল গোলাকার বাইরে রাবার, চামড়া অথবা সিন্থেটিক বস্তু দ্বারা আবৃত। বলের পরিধি 74.9-78 সেমি ও ওজন 567-650 গ্রাম হয়।
বাস্কেটবল দুটি দলের মধ্যে খেলা হয় এবং প্রত্যেক দলে 12 জন করে খেলােয়াড় থাকে। খেলার মাঠে 5 জন করে খেলােয়াড় একসঙ্গে থাকতে পারে। এই খেলা 10 মিনিটের চারটি পর্যায়ে (4 X 10 মিনিট) হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় এবং তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায় এবং প্রতিটি পর্যায়ের মাঝে 2 মিনিটের বিরতি থাকে। মাঝে 15 মিনিটের বিরতি দিতে হয়। অর্থাৎ 10 মি. + 2 মি./বিশ্রাম 10 মি. + 15 মি./বিশ্রাম + 10 মি. +2 মি./বিশ্রাম + 10 মিনিট। খেলা অমমাংসিত থাকলে 5 মিনিট করে অতিরিক্ত সময় খেলা চালাতে হয়, যতক্ষণ না খেলার মীমাংসা হচ্ছে।
বাস্কেটবল খেলা প্রথম শুরু হয় আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে ১৮৮১ সালে। এ খেলার জনক হলেন আমেরিকার প্রিংফিল্ড ওয়াই এম.সি এ কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ডা. জেমস নেইস্মিথ। প্রথমে একদলে ১০/১৫ জন করে খেলায় অংশ নিত। ১৮৯৪ সাল থেকে ৫ জন করে একদলে খেলার নিয়ম চালু হয়। বাংলাদেশে প্রথম খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলগুলোতে যেমন- ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী, সেন্ট জোসেফ ও চট্টগ্রামের সেন্ট প্লাসিড এবং অন্যান্য মিশনারি স্কুলগুলোতে বাস্কেটবল খেলা শুরু হয়। এ খেলাতে প্রচুর দমের প্রয়োজন হয়।
বাস্কেটবল খেলার কলাকৌশল ভালো বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের জন্য দরকার দম, ক্ষিপ্রতা, গতি ও লাফ দেওয়ার ক্ষমতা।
১. দাঁড়াবার ভঙ্গি : সুবিধেমতো দুই পা ফাঁক করে দুই পায়ে সমান ভর করে দাঁড়াতে হবে। হাঁটু সামান্য ভেঙ্গে শরীরের উপরের অংশ বাঁকিয়ে দুই হাত বুকের কাছাকাছি উঁচু করে ধরে রাখ। কনুই দুইটি নিচের দিকে থাকবে।
২. বল ধরা : বল এমনভাবে ধরতে হবে যেন বলটা নিজের আয়ত্ত্বে থাকে। বল ধরার সময় আঙ্গুলগুলো ছড়িয়ে বুড়ো আঙ্গুলগুলোই বলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। হাতের তালু দিয়ে বল ধরা ঠিক নয়।
৩. বল পাস দেওয়া : বল পাস দেওয়ার সময় মনে রাখতে হবে যে, এ সময় কব্জি ও কনুই শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বল পাস দেওয়ার সময় এক পা সামনে ও অপর পা পিছনে থাকে। বাস্কেটবল পাস দেওয়া হয় সাধারনত -
ক. চেস্ট পাস : বুক বরাবর দ্রুত পাস দেওয়া।
খ. মাথার নিচ দিয়ে পাস দেওয়া : খুব কাছাকাছি দ্রুত পাস দেওয়ার জন্য এ পাসের প্রয়োজন হয়।
গ. হুক পাস : বিপক্ষ থেকে দূরে বা তাদের মাথার উপর দিয়ে এ পাস দিতে হয়। সাধারনত একহাত দিয়ে পাস করতে হয়।
ঘ. বাউন্স পাস : বল ধরে সর্তীথ খেলোয়াড়ের কাছে কোর্টে ড্রপ দিয়ে পাস দিতে হয়।
ঙ. মাথার উপর দিয়ে পাস : খেলোয়াড় কাছে থাকলে মাথার উপর দিয়ে বল পাস দিতে হয়।
৪. ড্রিবলিং : জায়গা পরিবর্তন বা সামনে আগাবার জন্য ড্রিবলিং করতে হয়। একহাত দিয়ে বা পর্যায়ক্রমে ডান বা বাম হাত দিয়ে বা বারবার কোর্টে ড্রপ দেওয়াকে ড্রিবলিং বলে। বলে চাপ দেওয়ার সময় হাতের আঙ্গুলগুলো খোলা থাকবে এবং আঙ্গুল দিয়ে বলকে চাপ দিতে হবে।
৫. পিভটিং : পায়ের উপর ঘোরাকে পিভটিং বলে। একটি পা একই জায়গায় রেখে অন্য পা-টিকে যে কোনো দিকে যতবার ইচ্ছে ঘুরিয়ে নেওয়াকে পিভটিং বলে।
৬. শ্যুটিং : বাস্কেটে বল ছোড়াকে শ্যুটিং বলে। বাস্কেটে সরাসরি শ্যূাট করা যায় আবার বোর্ডে লাগিয়ে ও গোল করা যায়।
সেট শ্যুট : এক জায়গায় বা দাঁড়ানো অবস্থায় যে শ্যুট করা হয় তাকে সেট শ্যুট বলে। এ শ্যুট এক হাত বা দুই হাত দিয়ে করা যায়। এক হাত দিয়ে শ্যুট করার সময় যে হাত দিয়ে শ্যুট সে হাত বলের পিছনে থাকে। অন্য হাত বলের পাশে সাপোর্ট হিসেবে থাকে। দুই হাত দিয়ে শ্যূট করার সময় উভয় হাতই বলের পিছনে থাকবে।
লেআপ-শট : কাছ থেকে গোল করার জন্য সাধারণত এ শট করা হয়। এ শট করার সময় খেলোয়াড় ড্রিবলিং করতে করতে এগিয়ে যায় এবং এক পা দিয়ে জোরে মেঝেতে আঘাত করে শরীর উঁচুতে তুলে নেয় এবং যে হাত দিয়ে বল মারবে সে হাত সম্পূর্ণ সোজা করে দিয়ে বল সরাসরি বাস্কেটে ঢুকায় বা বোর্ডে মেরে বাস্কেটে ঢোকায়।
বাংলা
English
