বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
আমেরিকানদের কাছে বেসবল শুধু খেলা নয়, বরং তাদের জীবনের এক অন্তর্নিহিত অংশ। বেসবল কানাডা এবং আমেরিকা বিশেষ করে উত্তর আমেরিকাতে বেশি প্রচলিত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় খেলাও এই বেসবল। এই অঞ্চলেই প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ এই খেলা খেলে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বেসবল আমেরিকায় এত জনপ্রিয়? ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এর পেছনের ইতিহাস ও সামাজিক তাৎপর্য জানাটা হতে পারে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়।
বেসবল আমেরিকার জাতীয় খেলা!
বেসবলের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অধিকাংশ গবেষক একমত যে ১৮৪০-এর দশকে আমেরিকায় এই খেলাটির আধুনিক রূপ গড়ে ওঠে। ১৮৬৯ সালে প্রথম পেশাদার বেসবল দল গঠিত হয় – Cincinnati Red Stockings। এর পর থেকে বেসবল আমেরিকানদের জন্য ধীরে ধীরে ‘National Pastime’ বা জাতীয় বিনোদনের রূপ নেয়।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব!
আমেরিকায় বেসবল শুধু মাঠের খেলা নয় – এটি পরিবার, উৎসব, এবং ইতিহাসের অংশ। গ্রীষ্মের ছুটিতে পুরো পরিবার একসাথে বেসবল ম্যাচ দেখতে যায়, বন্ধুদের সাথে হটডগ খেতে খেতে খেলা দেখা একধরনের সংস্কৃতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও বেসবল আমেরিকানদের মনোবল ধরে রাখতে সাহায্য করেছিল। এছাড়া, আমেরিকার সমাজে বর্ণ বৈচিত্র্য ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেও বেসবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কিংবদন্তি খেলোয়াড় জ্যাকি রবিনসন যখন ১৯৪৭ সালে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে মেজর লিগে খেলেন, সেটি ছিল একটি বড় সামাজিক বিপ্লবের সূচনা। ১৯৫০-এর দশক থেকে টেলিভিশনে নিয়মিত বেসবল সম্প্রচার শুরু হয়, যা সাধারণ মানুষের কাছে খেলাটিকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে। আজকের দিনে বড় বড় ইভেন্ট যেমন World Series পুরো আমেরিকায় এক উন্মাদনার জন্ম দেয়।
পরিসংখ্যান ও কৌশলের খেলা বেসবল!
বেসবলের আরেকটি বিশেষত্ব হলো এটি পরিসংখ্যান ও কৌশলের খেলা। প্রতি খেলোয়াড়ের পারফর্মেন্স, গড়, হোম রান, স্ট্রাইক – সব কিছু বিশ্লেষণ করা যায়, যা অনেক ভক্তের জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর। অনেকটা ক্রিকেটের মতই, বেসবলেও প্রতিটি বল গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট খেলায় যেমন প্রতিটি দলে প্রয়োজন হয় ১১ জন খেলোয়াড়, বেসবলের জন্য এই সংখ্যা ৯। দুটি দলের মধ্যে যারা ব্যাটিং করে, তাদের বলে ‘অফেন্স’ দল এবং যারা বোলিং এবং ফিল্ডিং করে, তাদের বলা হয় ‘ডিফেন্স’ দল। অফেন্স দলের যে খেলোয়াড় ব্যাটিং করেন, তাঁকে বলা হয় ‘হিটার’ এবং ডিফেন্স দলের যিদি বল ছোড়েন তাঁকে বলা হয় ‘পিচার’। বুঝতেই পারছ ক্রিকেটের বোলিং, ব্যাটিংয়ের সঙ্গে কিছুটা মিল আছে এই খেলার। মোট ৯টি ইনিংসে অনুষ্ঠিত হয় এই খেলা। ৯ ইনিংসের মধ্যে যে দল বেশি রান জোগাড় করতে পারবে, সেই দল হবে বিজয়ী।
বাংলা
English
