বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
ক্রিকেটে নো-বল হচ্ছে বোলার কর্তৃক বোলিং করার সময় অবৈধভাবে ব্যাটসম্যানের প্রতি নিক্ষেপ করা কোন বল। ফলস্বরূপ ব্যাটিং দলের স্কোরে অতিরিক্ত রানও যোগ হয়। বেশিরভাগ ক্রিকেট গেমের জন্য, বিশেষত অপেশাদারদের জন্য, নো-বলের সমস্ত ফর্মের সংজ্ঞা এমসিসি'র ক্রিকেট আইন থেকে দেওয়া হয়।
নো বলঃ যেসব কারনে নো বল ধরা হয়
১.বল করার সময় বোলারের কনুই বাঁকা বা ভেঙ্গে গেলে।
২.ডেলিভারির স্ট্রাইড অর্থাৎ বল করার সময় পা পপিং ক্রিজ অতিক্রম করলে।
৩. বোলার বল করার সময় উইকেটের কোনো ক্ষতি করলে বা করার চেষ্টা করলে।
৪. বল পিচের অর্ধেকের এপাশে অর্থাৎ আগে পড়লে।
৫. বল সরাসরি ব্যাটসম্যানের কোমড়ের উপর দিয়ে স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে গেলে বা যেতো এরকম হলে।
৬. নিয়ম-মাফিক ফিল্ডার অবস্থান না করলে।
কি কি কারনে নো বল হয়ঃ
১. নো বলের নিয়মে সবথেকে কমন নিয়ম আমরা যেটা জানি, সেটা হচ্ছে ফ্রন্টফুট নো বল এবং ব্যাকফুট নো বল। বল ডেলিভারি দেবার মুহূর্তে সম্পূর্ণ পা পপিং ক্রিজের বাইরে ল্যান্ড করলে নো বল হয়, তবে ক্রিজের ভেতরে ল্যান্ড করে পিছলে বাইরে চলে গেলে নো বল হবে না। অর্থাৎ, ল্যান্ড করার জায়গাটাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। যদি বোলারের পায়ের স্পর্শ করা অংশ ক্রিজের বাইরে থাকে, এবং কিছু অংশ ভেতরে শুন্যে থাকে তাহলে ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে সেটা নো বল বলে বিবেচিত হবে, তবে স্পিনারদের জন্য সেটা নো বল নয়।
২. বল ডেলিভারি দেবার মুহূর্তে পেছনের পা যদি রিটার্ন ক্রিজের সম্পূর্ণ ভেতরে না থাকে তাহলে সেটা নো বল হবে। যদি পেছনের পায়ের সামান্যতম অংশও রিটার্ন ক্রিজের বাইরে চলে যায় তাহলেই সেটা নো বল বলে পরিগনিত হবে।
৩. বল ডেলিভারি হবার পর পিচে ড্রপ না পড়ে যদি ব্যাটসম্যানের কোমরের উপর দিয়ে যায় তাহলে সেটা নো বল হবে। ব্যাটসম্যান সোজা হয়ে দাঁড়ালে তার কোমরের উচ্চতাকে ষ্ট্যাণ্ডার্ড হাইট হিসাবে ধরা হবে। এটাকে বীমার বলা হয়। একজন ফাস্ট বোলার ২ টি বীমার করলে আম্পায়ার তাকে সেই ম্যাচে বল করা থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।
৪. পিচে ড্রপ পড়ে মাথার উপর দিয়ে চলে যাওয়া বলকে ওয়াইড হিসাবে ধরা হয়। তবে ওই ওভারেই যদি কোন বল আবারো কাঁধের উপর দিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বলটিকে নো বল হিসাবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কাঁধের উপর দিয়ে ১ টি বাউন্সার লিগ্যাল, ২য়টি নো বল। এটি টি২০ ফরম্যাটের জন্য। তবে টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে ২টি বল কাঁধের উপর দিয়ে করা যাবে, তবে অবশ্যই মাথার উপর দিয়ে নয় অর্থাৎ ২টি বল কাঁধের উপর লিগ্যাল এবং পরেরগুলো নো বল হিসাবে বিবেচিত হবে।
৫. বোলার বল না করে বলটি ছুঁড়ে মারলে সেটা নো বল হবে।
৬. বল করার সময় বোলার বোলিং প্রান্তের উইকেট ভেঙে ফেললে নো বল হবে।
৭. আম্পায়ারকে না জানিয়ে বোলিং হাত বদলে ফেললে নো বল হবে। অর্থাৎ ডানহাতে বল করতে করতে না জানিয়ে হঠাৎ বামহাতে করা যাবে না।
৮. আম্পায়ারকে না জানিয়ে বোলিং সাইড বদলে ফেললে নো বল হবে। অর্থাৎ ওভার দ্যা উইকেট বল করতে থাকা বোলার না জানিয়ে রাউন্ড দ্যা উইকেট বল করতে পারবে না।
৯. আন্ডারআর্ম বল করলে নো বল হবে, যদি না ম্যাচের আগে দুই দলের সন্মতি না থাকে।
১০. বোলার ডেলিভারি স্ট্রাইডে আসার আগেই বলটি ছুঁড়ে মারলে (রান আউট করার জন্য) সেটা নো বল হবে। তবে বোলিং প্রান্তের ক্রিজে প্রবেশ না করেও নরমাল বল করা যায়। ধরুন, ব্যাটসম্যান, বোলার বল ডেলিভারি করার আগেই দৌড় শুরু করলো রান নেবার জন্য, অথবা ব্যাটসম্যান আগের থেকেই মাঝ পিচ বরাবর এসে ব্যাট করছে। তখন বোলার চাইলে ব্যাটিং প্রান্ত বা বোলিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে রান আউট করতে পারে। ব্যাটিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে আউট করার একটু অসুবিধা আছে, সেটা হল বোলিং স্ত্রাইডে আসার আগেই যদি সে সেই চেষ্টা করে এবং রান আউট করতে ব্যর্থ হয় তাহলে নো বল হবে। তবে বোলিং স্ত্রাইডে আসার পর রান আউটের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে নো বল হবে না। আর, বোলিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে রান আউটের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও কোন নো বল হবে না, যেটাকে আমরা মানকাড নামে জানি।
১১. বল ব্যাটসম্যান প্রান্তের পপিং ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই যদি দুই বারের বেশি ড্রপ পড়ে তাহলে সেটা নো বল হবে। আইপিএলসহ অন্যান্য ডোমেস্টিক লীগে অবশ্য একবারের বেশি ড্রপ পড়লেই নো বল কল করা হয়।
১২. ব্যাটিং প্রান্তের উইকেটের আগেই বল থেমে গেলে নো বল কল করার নিয়ম আছে।
বাংলা
English
