ক্রিকেট ম্যাচে পিচের ধরণ কিভাবে ব্যাটিং বা বোলিংকে প্রভাবিত করে?
ক্রিকেট ম্যাচে পিচের ধরণ কিভাবে ব্যাটিং বা বোলিংকে প্রভাবিত করে?

ক্রিকেটে পিচ হল মাঠে দুই উইকেটের মাঝে ২২ গজ লম্ব এবং ১০ ফিট প্রস্থ শক্ত মাটি দিয়ে বানানো স্থান। এটি সমতল এবং স্বাভাবিকভাবে সামান্য ঘাস থাকে। যেকোনো ম্যাচের আগেই আমরা ক্রিকেট এক্সপার্টদের আলোচনা করতে শুনি যে "আজকের পিচ কেমন হবে?"— কারণ গ্রাউন্ড যতই বড় হোক না কেন, ওই ২২ গজের পিচই আসলে সব ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। (মেক ওর ব্রেক)

কিন্তু কিভাবে? চলুন দেখা যাক-

প্রত্যেকটা পিচের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যার থেকে বোঝা যায় যে সেটা ব্যাটিং পিচ না বোলার-ফ্রেন্ডলি পিচ। সাধারণত চার রকমের পিচ দেখতে পাওয়া যায় :—

১।হার্ড পিচঃ 

হার্ড পিচে সাধারণত ঘাস থাকে না এবং পিচের গঠন খুব মজবুত হয়। পাশাপাশি এই ধরণের পিচে পেসাররা ভালো বাউন্স পান,মাটিতে পড়ার পর বলের গতির তেমন কোন পরিবর্তন হয় না।

২। ডেড পিচ :

এমন পিচে কোনো ঘাস ও আদ্রতা পাওয়া যায় না। এই ডার্ক কালারের পিচগুলো ব্যাটসমেনদের জন্য স্বর্গ, কারণ বোলাররা এই পিচে ঠিক সুবিধে করে উঠতে পারেনা। বোলারদের কোনো সাহায্য দেয় না। এই পিচ ভারতীয় উপমহাদেশে দেখা যায়। মূলত ওডিআই ও টি-২০ ম্যাচ খেলা হয়ে থাকে।

৩। ডাস্টি পিচ :

এমন পিচগুলো স্পিন বোলারদের জন্য আদর্শ। বল ভালো গ্রিপে আসে। দক্ষ স্পিনারদের দ্বারা একাধিক উইকেট নেওয়া সম্ভব এই পিচে। ব্যাটিং-এর ক্ষেত্রে এই পিচ খুব একটা অসুবিধাজনক নয়, রান তুলতেও খুব একটা ঝামেলা হয় না। এই পিচ মূলত উপমহাদেশগুলিতে দেখা যায়।

৪। গ্রিন পিচ :

এই পিচে ঘাস বেশি থাকায় এটা ফাস্ট বোলারদের খুব সাহায্য দেয়। বলের বাউন্স এই পিচে খুবই অনিশ্চিত। স্পিনারদের এই পিচ বিশেষ সহায়তা করে না। ব্যাটসমেনদের জন্য এই পিচ দুঃস্বপ্ন, তবে ফাস্ট বোলারদের বিরুদ্ধে। এই পিচ সাধারণত পশ্চিম দেশগুলোতে দেখতে পাওয়া যায় ও টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ব্যবহৃত হয়।

একটি ব্যাটিং পিচ বোলারদের স্পেল আটকে দিতে পারে আবার একটি বোলার-ফ্রেন্ডলি পিচ প্রত্যেকটা বলেই ব্যাটসম্যানকে ডাগ-আউটে ফেরত পাঠাতে পারে। যখন একটি পিচ বোলার ও ব্যাটসম্যান দুজনকেই সমান সাহায্য দেয়, তখনই সেইটাকে ভালো পিচ বলে ধরা যেতে পারে। আর এতে ম্যাচও বেশ আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে।

This platform is proudly developed and supported by Trenza Softwares