ক্রিকেটে লাল, সাদা ও গোলাপি বলের গল্প
ক্রিকেটে লাল, সাদা ও গোলাপি বলের গল্প

ক্রিকেট বলের জনক কে?

ইংল্যান্ডে এক সময় বিখ্যাত এক পরিবারের নাম ছিলো ডিউক পরিবার। অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে ক্রিকেট বল সর্ব প্রথম তৈরি করে সেই ডিউক পরিবার। ১৭৬০ থেকে ১৮৪১ সালের মধ্যে প্রথম ক্রিকেট বল তৈরি করা হয়। ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী একটি মানসম্মত ক্রিকেট বলে অবশ্যই ছয়টি সেলাই থাকতে হবে।তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার  তৈরি কুকাবুরা হচ্ছে ক্রিকেট বলের বৃহত্তম প্রস্তুতকারক।সেটি লাল, সাদা কিংবা গোলাপি যে রঙেরই হোক না কেন। বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে  ডিউক ও কুকাবুরার পাশাপাশি ভারতভিত্তিক স্যানসপ্যারেইলস গ্রিনল্যান্ড কোম্পানির (এসজি) তৈরি ক্রিকেট বলও বাজারে চলছে।এসজি ব্র্যান্ডের বল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বেশ সুনাম অর্জন করেছে। এসজি কোম্পানি প্রথম ক্রিকেট বল তৈরি করে ১৯৩১ সালে। ভারতের মাটিতে এসজি বলের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সাল থেকে।

বলের রঙের ইতিহাস

ক্রিকেটের সূচনালগ্ন থেকে বলের রং দীর্ঘদিন লালই ছিল। ১৯৭৭ সালে  সীমিত ওভারের ক্রিকেট ফ্লাডলাইটের আলোতে চালু হওয়ায় প্রয়োজন পড়ে সাদা রঙের বলের। সাদা বল সুইং ও গতিশীলতায় লাল বলের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় সাদা বলের বেশ অবদান। তবে ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণে অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটে লাল বল বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সাদা বলের তুলনায় লাল বল বেশি সময় ধরে খেলার উপযোগী থাকে। এটি ঔজ্জ্বল্যও হারায় সময় নিয়ে, ধীরে ধীরে।

ক্রিকেটের সবচেয়ে সম্মানজনক ফরম্যাট টেস্ট ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে যাত্রা শুরু হয়েছে দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচের। এই দিবারাত্রির টেস্টের জন্য ক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছে গোলাপি রঙের বলের। ২০১৫ সালে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দিনরাতের টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করলেও ২০০৯ সাল থেকেই মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) এই গোলাপি বলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। তারা পরীক্ষা করে দেখে, দিনরাতের টেস্ট ম্যাচে গোলাপি রঙের বল কতটা দৃষ্টিবান্ধব, বিভিন্ন কন্ডিশনে এ বল কতটা উপযোগী, সেটিও পরীক্ষা করে দেখে এমসিসি। যেহেতু লাল বল ফ্লাডলাইটের আলোয় উপযোগী নয়,তাই গোলাপি বল ফ্লাডলাইটের আলোয় কতটা উপযোগী, সেটি ব্যাপক আকারে পরীক্ষা করে দেখা হয়।

This platform is proudly developed and supported by Trenza Softwares