বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
ক্রিকেট পিচের রহস্য-
ক্রিকেট যতোটা না হয়ে থাকে মাঠের খেলা তার চেয়েও বেশী হয়ে থাকে ২২ গজের পিচে। এই ২২ গজের পিচের রহস্য যে দল উদঘাটন করতে পারে সেই দলই জয় লাভ করে থাকে ক্রিকেট ম্যাচে।
তাই তো ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্লেষক ক্রিকেটকে '২২ গজের খেলা' বলে থাকেন।
সাধারণত ক্রিকেটের এই ২২ গজ পিচকে ৪ টি ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১। সবুজ পিচ ২। ডেড পিচ ৩। হার্ড পিচ ৪। ডাস্টি পিচ বা ধূলিমলিন পিচ
আসুন এইবার জেনে নিই,সব রকম পিচের কথা যেন আপনি ক্রিকেট মাঠে খেলতে নামলে কিংবা খেলা দেখতে বসলে নিজেই বুঝে ফেলতে পারেন পিচ কীরকম এবং পিচটি কীরকম আচরণ করবে।
১।সবুজ পিচঃ সবুজ পিচে সাধারণত ঘাস থাকে অর্থাৎ পিচে ঘাসের আধিক্য থাকে তাই পিচটি সবুজ দেখায়। সবুজ পিচ মানেই অসমান বাউন্সি পিচ এছাড়া ঘাসের আধিক্যতার ফলে বল আর পিচের মাঝে ঘর্ষণ কম থাকে এর ফলে বোলারের হাত থেকে বল ডেলিভারীর সময় থেকে ব্যাটসম্যানের কাছে পৌঁছানোর সময় বলের গতির তেমন হেরফের হয় না।
আবার পিচে ঘাস বেশী থাকাতে বল অনেকক্ষন নতুন থাকে এবং বলের সিম দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায় না।অর্থাৎ,পেস বোলাররা যা যা সুবিধা পেতে চান সবকিছুই পেয়ে থাকেন সবুজ পিচগুলোতে।তাই সবুজ পিচকে বলা হয়ে থাকে পেসারদের স্বর্গ।
২।ডেড পিচ বা ফ্ল্যাট পিচঃ ফ্ল্যাট পিচে কোন ঘাস থাকে না এছাড়া কোন ময়েশ্চার এবং কণা থাকে না।তাই এই ধরণের পিচ থেকে পেসাররা কোন বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন না।
আবার এই ধরণের পিচ সহজে ভাঙ্গে না ফলে স্পিনাররা তেমন একটা সাহায্য পায় না। সবুজ পিচ পেসারদের স্বর্গ হলেও ফ্ল্যাট পিচ হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের স্বর্গরাজ্য। তাই ফ্ল্যাট পিচে প্রচুর রান উঠে থাকে,তাই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এই ধরণের পিচের ব্যবহার বেড়েছে।
৩।হার্ড পিচঃ হার্ড পিচে সাধারণত ঘাস থাকে না এবং পিচের গঠন খুব মজবুত হয়। পাশাপাশি এই ধরণের পিচে পেসাররা ভালো বাউন্স পান,মাটিতে পড়ার পর বলের গতির তেমন কোন পরিবর্তন হয় না।
সবমিলিয়ে এই পিচ থেকে পেসারদের জন্য কিছুটা সুবিধা থাকে,তবে বাউন্সারের তারতম্য কম থাকায় এবং বল দ্রুত ব্যাটে আসায় ভালো ব্যাটসম্যানদের জন্য এই পিচে রান করা তেমন কঠিন কাজ নয়।
৪।ডাস্টি পিচ বা ধূলিমলিন পিচঃ এই ধরণের পিচের গঠন তেমন মজবুত নয় ফলে এই পিচ দ্রুত ভাঙ্গতে থাকে।
এই কারনে বল মাটিতে পড়ার পর পিচ বলকে 'গ্রিপ' করে আঁকড়ে ধরে,এই ধরণের পিচে স্পিনাররা প্রচুর সাহায্য পেয়ে থাকেন কেননা বল মাটিতে পড়ার পর কতটুকু ঘুরবে সেটা ব্যাটসম্যানদের জন্য আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব। সাধারণত উপমহাদেশের মাটিতে এই ধরণের পিচ দেখা যায়।
তবে পিচের ধরণ নির্ভর করে মূলত স্বাগতিক দেশের আবহাওয়া,কন্ডিশন,মাটির প্রকৃতি আর স্বাগতিক দেশের স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রের উপর আর এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই পিচকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলেন দক্ষ কিউরেটর আর মাঠকর্মীরা। আর সেই পিচকে ব্যবহার করে ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনার বাকি দায়িত্বটা থাকে মাঠের ক্রিকেটারদের উপর।
বাংলা
English
