বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
কেনো বিকেএসপি তে ভর্তি হবেন
একটি দেশের তরুণ তরুণীদের মধ্যে অনেকেই স্বপ্ন দেখে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার। বর্তমান সময়ে এই বিষয়টি জনপ্রিয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পেশাদার খেলোয়াড় হতে পারলে যশ,আর্থিক খ্যাতি, আন্তর্জাতিক সম্মাননা ইত্যাদি বিষয়সমূহ বিবেচনা করে অনেকেই ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার জন্য শুধু খেলা জানলেই চলে না,সেজন্য প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট বয়স থেকে সঠিক গাইডলাইনের।
এই গাইডলাইনের ওপর ভর করেই তৈরি হয় ভবিষ্যতের খেলোয়াড়েরা। বিশ শতকের শেষ দিকেও বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে ছিলো না কোনো পেশাদারির ছোয়া। খেলা তো অনেকেই পারেন কিন্ত সেই খেলার মাধ্যমে পেশাদার খেলোয়াড় গড়ে তোলার কাজটি করে আসছে বিকেএসপি। পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার প্রথম পছন্দ এই প্রতিষ্ঠান। এই বিকেএসপি থেকেই উঠে এসেছেন সাকিব আল হাসান,মুশফিকুর রহিম,মাসুদ রানা,ফিরোজ মাহমুদ টিটু সহ ক্রীড়াজগতের আরো অনেক উজ্জ্বল মুখ। পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার এই দেশসেরা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে গেলে কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় খেলোয়াড়দের।
বিকেএসপি কি ?
বি কে এস পি এর পূর্ন রূপ হলো বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান ১৯৮৬ সালের ১৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে। বিকেএসপি ঢাকা শহরের অদুরে সাভারের জিরাবোতে অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে দেশের জন্য পেশাদার আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করা। তবে খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি একাডেমিক পড়াশোনাতেও এখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রী পর্যায়ের পড়াশোনা করার সুযোগ আছে বিকেএসপি তে। সম্পূর্ন আবাসিক ব্যবস্থাপনায় ছাত্ররা এখানে অবস্থান করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিকেএসপির আঞ্চলিক শাখা রয়েছে। এসব শাখাগুলো সিলেট, খুলনা, দিনাজপুর, বরিশাল, চট্টগ্রামে অবস্থিত। এসব আঞ্চলিক শাখাগুলোর মধ্যমেও বিকেএসপির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে।
বিকেএসপির ক্রীড়া বিভাগসমূহ
প্রতিষ্ঠাকালে বিকেএসপি শুধুমাত্র ক্রিকেট ও ফুটবল বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে বিকেএসপিতে ১৭ টি আলাদা আলাদা খেলার বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগগুলো হচ্ছে শুটিং, সাঁতার, টেনিস, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ােন্দা, কারাতে, উশু ,ভলিবল, আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, বাস্কেটবল, বক্সিং, ক্রিকেট, ফুটবল, জিমনেসটিকস, হকি, জুডো ।
বিকেএসপিতে ভর্তির নিয়ম
বিকেএসপিতে সাধারনত চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেনিতে আসন খালি থাকার সাপেক্ষে ভর্তি নেওয়া হয়ে থাকে। প্রতি বিভাগে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। ভর্তির জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাপেক্ষে আবেদন করতে হয়। কয়েকধাপের বাছাই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। প্রথমে প্রাথমিক বাছাইয়ের প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও বয়স দেখা হয়। প্রাথমিক বাছাইয়ের দ্বিতীয় ধাপে দেখা হয় শারীরিক সক্ষমতা।
তৃতীয় ধাপে শিক্ষার্থীকে মাঠে পাঠানো হয় এবং তার আবেদন অনুযায়ী ব্যাবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরবর্তিতে তাদের ৭ দিনের অনুশীলন ক্যাম্পে পাঠানো হয়। এরপরে তাদের একটি লিখিত পরীক্ষায় বসতে হয়। এখানে বাংলা ইংরেজি গনিত ও সাধারন জ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা হয়ে থাকে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় মাঠের খেলা ৭০, লিখিত পরীক্ষায় (বাংলা, ইংরেজি ও গণিত) ২০ ও ক্রীড়াবিজ্ঞানে ১০।
বিকেএসপিতে ভর্তি খরচ
বিকেএসপিতে ভর্তিকালীন ও শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি দিতে হয়। অনেকেরই ধারনা বিকেএসপি তে ভর্তি হতে হয়তো অনেক টাকা পয়সার প্রয়োজন । এটি মূলত একটি ভ্রান্ত ধারনা। ভর্তি ফি ২০০ টাকা (ভর্তিকালীন), জামানত ৫০০০ টাকা, মেডিকেল ফি ৩০০ (বার্ষিক), পরীক্ষার ফি ১৫০ (বার্ষিক)। এসকল ফী সমূহ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হয়ে থাকে।
বিকেএসপিতে ভর্তির সময়
বিকেএসপিতে ভর্তির জন্য সাধারনত ডিসেম্বর মাসে জাতীয় পত্রিকা ও বিকেএসপির ওয়েবসাইটে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এই বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও নির্দেশনা দেওয়া থাকে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা এই বিজ্ঞপ্তি থেকেই প্রয়োজনীয় সকল নির্দেশনা পেয়ে থাকে।
বাংলা
English
