আম্পায়ার হতে চাইলে কি করবেন ?
আম্পায়ার হতে চাইলে কি করবেন ?

আম্পায়ার হতে চাইলে কি করবেন?

যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক খেলায় সেটি পরিচালনার জন্য একজন নির্দিষ্ট যোগ্যতার পরিচালনাকারী থাকে। ক্রিকেট বা ফুটবলের ভাষায় তাদের রেফারি বা আম্পায়ার বলা হয়ে থাকে। একজন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের ওপর খেলার ফলাফল নির্ভর করে। তাই খেলা পরিচালনার জন্য একজন আম্পায়ারকে যেমন নির্দিষ্ট গুনাবলীর অধিকারী হতে হয় তেমন দরকার হয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা। আসুন জেনে নিই আপনার আম্পায়ার হতে হলে কি কি যোগ্যতা থাকতে হবে।

আপনি যদি একজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আম্পায়ার হতে চান তবে প্রথম থেকেই আপনার লক্ষ্য স্থির করতে হবে যে আপনি আসলেই আম্পারিং করতে চান। তবে প্রাথমিক ভাবে আম্পায়ারিং শুরু করে বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে তবেই একজন আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যায়।

 

ক্রিকেট আম্পায়ার হিসেবে কাজ করতে চাইলে সাধারণত কোন গতানুগতিক ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না। সাধারণত আপনি ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রিপ্রাপ্ত কেউ না হলেও আম্পায়ার হিসেবে কাজ করতে পারবেন। ক্রিকেট আম্পায়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে হলে আসলে অভিজ্ঞতা মুখ্য একটি বিষয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে শুধুমাত্র ইচ্ছার প্রয়োজন। পরবর্তীতে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লাব ক্রিকেটে ধীরে ধীরে কাজ করতে করতে নাম ও যশ ছড়ালে আপনাকে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকলে আপনি আম্পায়ার হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেলেও পেতে পারেন।

সাধারণত ৪ থেকে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারলে জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ক্রিকেট লীগের প্রথম ধাপে নিয়োগ পাওয়া যায়। ৫ বছরের অধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হলে আপনাকে জাতীয় ক্রিকেট লীগের সর্বোচ্চ ধাপে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আম্পায়ারিং-এর লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা দিয়ে আপনার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বনামধন্য আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুলের তথ্যমতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে আম্পায়ার হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ধাপের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে বিসিবি যখন আম্পায়ার চায় তখন তারা সিভি জমা দেওয়ার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের জানায়। পরবর্তীতে বিসিবির অধীনে Law and Playing condition এর ওপর একটি কোর্স করতে হয়। এরপরে একটি পরীক্ষায় বসতে হয় প্রার্থীদের। পরীক্ষায় পাস মার্ক পেলে তবে সে একজন ‘এফিলিয়েটেড আম্পায়ার’ হিসেবে গন্য হয়। এরপরে তাকে বিভিন্ন ধাপে কোয়ালিফাইং ম্যাচ, উইমেন্স ক্রিকেট,স্কুল ক্রিকেট, সেকেন্ড ডিভিশন ,থার্ড ডিভিশন ইত্যাদি পর্যায়ে আম্পায়ারিং করে আম্পায়ারিং এর প্রাইমারী স্টেজ পার করতে হয়।

এরপরে তার মাঠের পার্ফমেন্স, প্রতি বছর বিভিন্ন রিফ্রেশমেন্ট কোর্স করতে হয়। প্রতি বছর আলাদা আলাদা পরীক্ষায় তাকে পাশ করতে হবে। এভাবে তাকে আস্তে আস্তে সি গ্রেড থেকে বি গ্রেড ,বি গ্রেড থেকে এ গ্রেড-এ উঠতে হবে। 

This platform is proudly developed and supported by Trenza Softwares