শীত এলেই চারদিকে ব্যাডমিন্টন খেলার ধুম লেগে যায়। আমরা সবাই ব্যাডমিন্টন খেলতে পছন্দ করলেও কিন্ত অনেকেই জানি না ব্যাডমিন্টন খেলার আগে ও পরে যে কিছু প্রস্ততির ব্যাপার আছে। আসুন জেনে নিই, ব্যাডমিন্টন খেলার আগে এবং পরে কি কি করণীয়।
ওয়ার্ম আপ : সাধারণত শীত আসতে না আসতেই কোর্ট করে খেলা শুরু করে দেন অনেকেই। কিন্তু খেলার প্রবল আগ্রহে অনেকেই ভুলে যান ওয়ার্ম করতে। এ জন্য অনেকে ইনজুরিতে পড়েন। পুরো শীতজুড়ে পোহাতে হয় সেই ব্যথা।
কিছু ওয়ার্ম আপ প্রতিদিন খেলা শুরু করার আগে করে নিতে হবে।
বুকের পেশির স্ট্রেচিং : সারা বছর খেলাধুলা থেকে দূরে যদি থাকেন তাহলে প্রথমেই ৩-৪ মিনিট এই ব্যায়াম করে নিন। কারণ শরীরের অন্যান্য অংশ একটু ফ্রি করতে হলে প্রথমেই পেশি ঠিক করতে হবে। ব্যাডমিন্টন খেলার দু-তিন দিন আগে শুরু করুন ব্যায়ামটি।
কাঁধের পেশির স্ট্রেচিং :
ব্যাডমিন্টন খেলার সময় বেশির ভাগ মানুষই কাঁধে ব্যথা পেয়ে থাকেন। ব্যাডমিন্টন খেলাটা যেহেতু হাত দিয়ে খেলতে হয় এবং বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল দিয়ে খেলাটা খেলতে হয়, তাই কাঁধের ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি।
বাহুর পেশির স্ট্রেচিং (ট্রাইসেপ) :
ট্রাইসেপ ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি। হাতের অর্ধেক জোড় ট্রাইসেপ থেকে আসার কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিন-চার মিনিটের মতো ট্রাইসেপের ব্যায়াম করে ফেলুন।
বাহুর পেশির স্ট্রেচিং (বাইসেপ) :
হাতে পুরোপুরি ফিট আসার জন্য বাইসেপ ব্যায়ামের বিকল্প নেই। কারণ খেলার সময় অনেকেরই হাতে টান পড়ে। ৫ মিনিট বাইসেপ ব্যায়াম করুন।
পায়ের পেশির স্ট্রেচিং :
এই খেলায় যে ইনজুরিতে সবাই কম-বেশি পড়েন সেটি হ্যামস্ট্রিং। হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে পড়লে দীর্ঘ সময় খেলা থেকে দূরে থাকতে হয়। কমপক্ষে চার-পাঁচ মিনিটের মতো খেলার আগে পায়ের পেশির ব্যায়াম খুব ভালো মতো করে নিতে হবে।
ত্বকের যত্ন :
খেলার সময় ঘাম হবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই ঘাম গায়ের মধ্যে রেখে দিলে ঠাণ্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে। খেলতে যাওয়ার আগেই গুছিয়ে নিন নিজের ব্যাগ। সেখানে রাখবেন রুমাল এবং অতিরিক্ত একটা গেঞ্জি। যে গেঞ্জি পরে খেলবেন সেটি ঘামে ভিজে যাবে। তাই অতিরিক্ত পোশাক এবং তোয়ালে রাখুন। অনেকের ত্বকে বিভিন্ন রকমের ফাঙ্গাল সমস্যা থাকে, যা ঘামের কারণে অনেক সময় বেড়ে যায়। সঙ্গে রুমাল রেখে ঘাম একটু পর পর মুছে নিতে হবে।
অনেকেই খেলার পর রাতে বাসায় গিয়ে গোসল করতে চান না ঠাণ্ডার কারণে, এই অভ্যাসটা দূর করতে হবে। কারণ গায়ে ঘাম লেগে থাকে এবং রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। তা ছাড়া শীতকালে ধুলার পরিমাণটা বেশি থাকায় মাথায় বালু লেগে থাকতে পারে, তাই অবশ্যই খেলার পর গোসল করে নিতে হবে। বেশি ঠাণ্ডা থাকলে হাল্কা গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিতে পারেন। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে।
পানি পান :
খেলাধুলার সময় দেহের পানির চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশি পানি পান করা যাবে না। বিরতি দিয়ে ধীরে ধীরে পানি পান করতে হবে। খেলার দুই ঘণ্টা আগে আধা লিটার, ২৫০ মিলিলিটার পানি ওয়ার্ম আপের সময় এবং খেলার সময় প্রতি ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরপর ১৫০ থেকে ২০০ মিলিলিটার পানি পান করতে হবে। খেলা শেষের ৩০ মিনিটের মধ্যে আরো ২৫০ মিলিলিটার পানি পান করতে হবে।
খাবার খাওয়া :
ব্যাডমিন্টন খেলতে প্রচুর পরিমাণ শক্তি লাগে তাতে সন্দেহ নেই। তাই সুষম খাদ্যগ্রহণ প্রয়োজন। তবে খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমে যাওয়া যাবে না। এ জন্য ২০ মিনিট থেকে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। খেলার আগে সাধারণ কার্বোহাইড্রেট খাবার, ফলমূল (যেমন খেজুর, বাদাম) ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। যেকোনো অনুশীলনের আগেই ভারী খাবার খাওয়া যাবে না। খেলার পর তাজা ফলের রস ও প্রবায়োটিক জুস পান করতে হবে। কঠিন পরিশ্রমের পর দেহের মাংসপেশিগুলো যেন ক্ষতি কাটিয়ে তুলতে পারে সেদিকে মনোযোগী হতে হবে।
ডিম, মুরগির মাংস, টার্কি, বাদামি রুটি বা চাল, পনির, বাদাম ও সবজি খেতে হবে।