যুক্তরাষ্ট্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা কিছু প্রথম
যুক্তরাষ্ট্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা কিছু প্রথম

বৈচিত্র্যের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা কিছু প্রথম!

 

এইবার ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং উইন্ডিজে।এইবারের আসরটি হতে যাচ্ছে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর।এর আগের আটটি আসরে খুব একটা বৈচিত্র্য দেখা যায়নি কিন্ত এইবারের বিশ্বকাপ যেন বৈচিত্র্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে।এমন অনেক কিছু আছে যা এইবারই প্রথমবার হতে যাচ্ছে ক্রিকেট ইতিহাসে।

 

১।যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটও খেলে?

২০২৪ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরে অনেকেরই মনে হয়েছিল,যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট!অলিম্পিকে রাজত্ব করা দেশটির ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ অনেক কম।

যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে ক্রিকেটের দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ হলেও এই প্রথমবারের মতো আইসিসির কোন বৈশ্বিক আসর বসতে যাচ্ছে ক্ষমতাধর এই দেশটিতে।মূলত ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী আরও সম্প্রসারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো আইসিসির কোন বৈশ্বিক আসর বসতে যাচ্ছে।এছাড়া,প্রথমবারের মতো টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

২।প্রথমবারের মতো ২০ দলঃ

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দল কমিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল আইসিসি। মাত্র ১০ দল নিয়ে খেলা হয় মর্যাদার বিশ্বকাপ।ফলে,শক্তিতে পিছিয়ে থাকা ছোট দলগুলোর নিজেদের মেলে ধরার পরিসরও ছোট হয়ে আসে।

এইজন্যই,২০০৭ সালে ১২ দল নিয়ে শুরু হওয়া টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৪ সালে হয় ১৬ দলের।টানা ৪ আসর ১৬ দল নিয়ে খেলার পর এইবার এর পরিধি বেড়েছে আরও।এইবার প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে রেকর্ড ২০ দল।তাই,প্রথমবারের মতো এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে খেলছে যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা,উগান্ডা।মধ্যপ্রাচ্য,আফ্রিকা,ইউরোপ,আমেরিকা মহাদেশের পিছিয়ে পড়া দলগুলো এইবার সুযোগ পাওয়ায় টুর্নামেন্টটি হয়ে উঠেছে সত্যিকারের বিশ্বকাপ এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ।

৩।ক্রিকেটের প্রথম "মডিউলার" স্টেডিয়ামঃ  

মডিউলার স্টেডিয়াম মূলত এমন অবকাঠামো যা স্থানান্তর করা সম্ভব।নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে বলা হচ্ছে ক্রিকেটে প্রথম মডিউলার স্টেডিয়াম।স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি এইটি।

এছাড়া,এই স্টেডিয়ামের পিচ বানানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ওভালে।সেগুলো জাহাজে করে নিয়ে আসা হয়েছে ফ্লোরিডায়।এরপর সড়কপথে নিয়ে আসা হয়েছে নিউইয়র্কে।ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম মডিউলার স্টেডিয়ামের প্রথম ম্যাচ খেলবে কে জানেন?লাল-সবুজের দেশ বাংলাদেশ! তাই ইতিহাসের পাতায় ক্রিকেটের প্রথম মডিউলার স্টেডিয়ামের সাথে বাংলাদেশ নামটাও জুড়ে থাকবে।

৪।সময়ের মূল্য দিতে প্রথমবার স্টপ-ক্লকঃ

ক্রিকেটে টাইম-আউট কিংবা ফুটবলে স্টপ ওয়াচ এইসব কিছু তো জানা আছে।কিন্ত প্রথমবারের মতো আইসিসি স্টপ-ক্লক চালু করতে যাচ্ছে ক্রিকেটে।এখন প্রশ্ন জাগতেই পারে স্টপ-ক্লকের কাজ কি?

                                                                                                                                                                                                                   

 নিয়মটি খুবই সহজ,স্টেডিয়ামের যে কোন এক জায়গায় একটা ঘড়ি বসানো থাকবে এবং সেই ঘড়িতে কাউন্টডাউন করা হবে।অর্থাৎ,এখন থেকে ক্রিকেট খেলায় এক ওভার শেষ হলে পরবর্তী ওভার শুরু করার জন্য বোলিং দল এক মিনিট সময় পাবেন।এক মিনিটের মধ্যেই বোলারকে বোলিং মার্কে গিয়ে প্রস্তত থাকতে হবে।আর এই নিয়ম ভঙ্গ করলে রান জরিমানা করতে পারবে আম্পায়াররা।আর এই স্টপ-ক্লক নিয়মটি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে চালু করতে যাচ্ছে আইসিসি।

৫।ক্রিকেটে প্রথম রিজার্ভ টাইমঃ

এতোদিন বিশ্বকাপের শুধু ফাইনালের জন্য অফিসিয়ালি রিজার্ভ ডে রাখা হতো কিন্ত এইবার প্রথমবারের মতো দুই সেমিফাইনালের জন্য রিজার্ভ টাইমও রাখা হয়েছে।রিজার্ভ টাইম কী?রিজার্ভ টাইম হচ্ছে একটা ম্যাচ যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুরু করা না যায়,তবে নির্দিষ্ট সময়ের পর আরও অতিরিক্ত নির্দিষ্ট সময় রিজার্ভ রাখা যেন ম্যাচের ফলাফল বের করা সম্ভব হয়।এইবার প্রথম সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের জন্য ১৯০ মিনিট রিজার্ভ টাইম এবং একদিন রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জন্য রিজার্ভ টাইম রাখা হয়েছে ২৫০ মিনিট যেহেতু সেই ম্যাচ আর ফাইনালের ব্যবধান মাত্র একদিন। 

 

This platform is proudly developed and supported by Trenza Softwares