বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
বাংলাদেশ বিপিএল ২০২৪ এ থাকছে যতো প্রযুক্তির ব্যবহার
বাংলাদেশ বিপিএল ২০২৪ আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণ হচ্ছে টি-টুয়েন্টি ভার্সন।দেশী বিদেশী বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণেই মূলত টি-টুয়েন্টির জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী।আইপিএল,বিগ ব্যাশ,বিপিএল,পিএসএল এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য।যদিও এর বাহিরে আরও অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এখন চলছে সারাদুনিয়াজুড়েই তবে আইপিএল এবং বিগ ব্যাশের পরেই সবচেয়ে পুরনো হচ্ছে বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)।
২০১২ তে শুরু হওয়া বিপিএল এইবার দেখতে দেখতে ২০২৪ এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এর দশম আসর।প্রতিবার বিপিএল শুরু হলেই একটাই প্রশ্ন সবার প্রথমেই ঘুরে ফিরে আসে বিপিএল ২০২৪ এ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে তো?কেননা,বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও এখন উন্নত টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় স্বচ্ছতা এবং আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য।সেদিক থেকে বিপিএল খানিকটা পিছিয়ে ছিল তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি) বদ্ধপরিকর বিপিএলের দশম আসরে নিশ্চিত করা হবে উন্নত সব ক্রিকেটীয় টেকনোলজি।তাহলে চলুন এইবার জেনে নিই,কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এইবার বাংলাদেশ বিপিএলের ২০২৪ দশম আসরে।
বাংলাদেশ বিপিএল ক্রিকেটে স্নিকোমিটার
স্নিকোমিটার হচ্ছে এমন এক প্রযুক্তি যা শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে নিশ্চিত করে বল ব্যাটসম্যানের ব্যাটে বা শরীরের কোন অংশ স্পর্শ করেছে কি না।স্নিকোমিটার ডিভাইসটি রাখা হয় উইকেটের মাঝে।
ডিভাইসটিতে অ্যাম্পলিফিকেশন ব্যবহার করা হয় যেন মাঠে বিভিন্ন যে শব্দ থাকে যেমন: দর্শকদের চিৎকার,বাতাস এবং ব্যাটসম্যানের ফুট মুভমেন্ট এইগুলো দূরীভূত করে বলের সঠিক শব্দতরঙ্গ নিশ্চিত করা যায়।এই শব্দতরঙ্গ মাইক্রোফোনের সাহায্যে ট্রান্সফার করা হয় অসিলিস্কোপে।
এখন নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগতে পারে,অসিলিস্কোপ আবার কী?
অসিলোস্কোপ কি
অসিলিস্কোপের সাহায্যে ইলেক্ট্রিক সিগন্যালগুলোকে গ্রাফিক্যালি দেখানো হয় এবং টিভি আম্পায়ার স্নিকোমিটারের সাহায্যে ডিশিসন নেওয়ার সময় আমরা টিভিস্ক্রিনে যে শব্দতরঙ্গের গ্রাফ দেখি সেটি হচ্ছে অসিলিস্কোপ থেকে সরবরাহ করা হয়।যখন গ্রাফে কোন স্পাইক দেখা যায় তখন থার্ড আম্পায়ার নিশ্চিত হয় বল ব্যাটসম্যানের ব্যাটে বা শরীরের কোন অংশ স্পর্শ করেছে।তবে এখন স্নিকোমিটার বলতে আলট্রা-এডজ কে বোঝায়।আলট্রা-এডজ হচ্ছে মূলত স্নিকোমিটারের আপডেট ভার্সন যেখানে অডিও এবং ভিজ্যুয়াল উভয়ই ব্যবহার করা হয় আম্পায়ারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে।
হটস্পট
অনেক সময় বল ব্যাটে লাগল নাকি প্যাড বা গ্লাভসে, তা নিয়ে ঢের বিতর্ক! এ বিতর্ক নিরসনে ব্যবহার করা হয় হটস্পট প্রযুক্তি। এটি মূলত ইনফ্রা-রেড রশ্মি দিয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থা। দুটি শক্তিশালী থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা থাকে মাঠের দুই প্রান্তে। বলের সঙ্গে যে কোনো বস্তুর (ব্যাট, প্যাড, গ্লাভস বা খেলোয়াড়ের শরীর) ঘর্ষণের মুহূর্তে উৎপন্ন তাপ দূর থেকে দ্রুত পরিমাপ করতে পারে ক্যামেরা দুটি। এরপর বস্তুটির যে অংশে বলের ঘর্ষণ লাগে, কম্পিউটারে উৎপন্ন নেগেটিভ ছবিতে স্থানটি লাল দাগে চিহ্নিত হয়।
স্পিড গান
বোলাররা বল করার পরই টিভি পর্দায় ভেসে ওঠে বলের গতি। বোলার ঘণ্টায় কত মাইল বা কিলোমিটার বেগে বল করলেন, সেটির ওপর বিশেষ নজর থাকে সবার। বলের এ গতি মাপা হয় ‘স্পিড গান’ প্রযুক্তির মাধ্যমে।যন্ত্রটি বসানো হয় সাইট স্ক্রিনের বেশ ওপরে। এটি গতি মাপে রাডার-বিমের সংকেতের সাহায্যে। বল পিচ করার পর পুরো লেংথ শনাক্ত করে এটি। আর পুরো পদ্ধতিটি সম্পন্ন হয় ক্ষুদ্রতরঙ্গ প্রযুক্তির মাধ্যমে। তবে বাতাসের গতি এখানে কোনো ভূমিকা রাখে না। ক্ষুদ্রতরঙ্গগুলো এতটাই শক্তিশালী, যেকোনো আবহাওয়ায় তা ভেদ করতে পারে। কেবল ক্রিকেটে নয়, এ প্রযুক্তি ব্যবহার হয় টেনিসেও।
বাংলাদেশ বিপিএল ২০২৪ ক্রিকেটে হক আই প্রযুক্তি
টি টুয়েন্টি হচ্ছে চার ছক্কার খেলা।কোন ব্যাটসম্যান কতো বড় ছক্কা হাঁকিয়েছে সেইটাও আনন্দ কিংবা আড্ডার বিষয় হয়ে উঠে কিন্ত কখনো ভেবে দেখেছেন,কিভাবে ছক্কার বিশালতা কিংবা কোন বোলারের বল কতোটুকু টার্ন করেছে তা কিভাবে পরিমাপ করে থাকে?
ছক্কার পরিমাপ করা,বল টার্নের পরিমান কিংবা বল ট্র্যাকিং এইসবকিছুই করা হয় হক-আই প্রযুক্তির সাহায্যে।HAWK-EYE কে বাংলায় বলা হয় ঈগলের চোখ।হক আই হলো, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত দিক ও লক্ষ্য নির্ণায়ক পদ্ধতি বিশেষ। হক আই এর ক্যামেরার সেন্সর সংগ্রহ করা ছবি ভার্চুয়াল রিয়ালিটি মেশিনে পাঠায় এবং এটি বলের ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরী করে। হক আই এর সিদ্ধান্ত খুবই সঠিক ও নিখুঁত।হক আইয়ে ব্যবহার করা হয় ক্রিকেট মাঠে অবস্থিত ছয়টি বা তার অধিক সংযুক্ত টিভি ক্যামেরা। কম্পিউটার রিয়েল টাইম ভিডিও গ্রহন করে এবং ছয়টি ক্যামেরার সাহায্যে বলের বিভিন্ন দিক ও কোণ নির্ণয় করে। কম্পিউটার একই সাথে ছয়টি এঙ্গেলে তোলা ছবি একত্রিত করে এবং একটি ত্রিমাত্রক ছবি তৈরী করে। এই ত্রিমাত্রিক ছবিই বলের নির্দিষ্ট দিক প্রকাশ করে।
হক-আইয়ের কারিশমা শুধু এখানেই শেষ নয়।লিটন দাস,সাকিব,তামিম যখন ঝড়ের গতিতে মাঠের চারদিকে বল পাঠিয়ে অর্ধ শতক রান করে কোথায় কোন পথে মাঠ পার হয়েছে কিংবা মাঠের কত দূর পর্যন্ত গিয়েছে তার জন্য তৈরি করে ওয়াগণ হুইল।
বাংলা
English
