ডিমেরিট পয়েন্ট কি? কিভাবে নির্ধারিত হয় প্লেয়ারদের শাস্তি?
ডিমেরিট পয়েন্ট কি? কিভাবে নির্ধারিত হয় প্লেয়ারদের শাস্তি?

ডিমেরিট পয়েন্ট কি?প্লেয়ারদের শাস্তি নির্ধারণ হয় কিভাবে?

সম্প্রতি বাংলাদেশ বনাম ভারত নারী দলের ম্যাচে ভারতীয় অধিনায়ক হারমনপ্রীত আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সন্তষ্ট না হতে পেরে মাঠেই ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে আঘাত করেন। এছাড়াও পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনেও হারমনপ্রীত কে নানা রকমের অশোভন আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। এসব আচরনের জন্যই তাকে ৪ ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। কি এই ডিমেরিট পয়েন্ট ? আসুন জেনে নিই বিস্তারিত।



ডিমেরিট পয়েন্ট হলো এক ধরনের নেগেটিভ মার্কিং যা কোনো খেলোয়াড় বা স্টেডিয়ামের নামের সাথে যুক্ত হয়। আইসিসির নিয়মে দুই ধরণের ডিমেরিট রয়েছে। একটি হলো কোনো খেলোয়াড়ের অনিয়ন্ত্রিত আচরণের জন্য তার নামের সঙ্গে যোগ হয় অন্যটি কোনো মাঠের বাজে অবস্থার জন্য ওই মাঠকে দেওয়া হয়। এটা সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। ২০১৬ সালের ২২ শে সেপ্টেম্বর থেকে আইসিসি ডিমেরিট পয়েন্ট সিস্টেম চালু করে।

 

প্লেয়ারের ডিমেরিট ও শাস্তি

প্লেয়ারের নামের সাথে যে ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয় তার চারটি ভাগ রয়েছে। এই আলাদা আলাদা ভাগের জন্য শাস্তির ধরনও আলাদা। প্লেয়ারের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ডিমেরিট পয়েন্ট কে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত ভাগ করা হয়। অপরাধের মাত্রা প্রথম স্তরের হলে ১-২ ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয়। এর তেমন কোনো বড় শাস্তি নেই। অপরাধের মাত্রা দ্বিতীয় স্তরের হলে ৩-৪ ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয়। এর শাস্তি হলো সে প্লেয়ার একটি টেস্ট বা দুটি ওয়ান ডে বা দুটি টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে পারবে না।

অপরাধের মাত্রা তৃতীয় স্তরের হলে এরজন্য ৫-৬ ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয় এবং প্লেয়ারের অপরাধের মাত্রা চতুর্থ স্তরের হলে ৭-৮ ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয়। এর শাস্তি হলো প্লেয়ার ২ টি টেস্ট ম্যাচ বা ৪টি ওডিআই বা ৪ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে পারবে না। ডিমেরিটের এই পয়েন্ট ২৪ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে। বাংলাদেশের সাব্বির রহমান এই নিয়মের প্রথম ‘শিকার’ হন!

 

মাঠের ডিমেরিট পয়েন্ট

খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোনো ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বাজে অবস্থার জন্য সেই মাঠের নামের সঙ্গেও ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয়। কোনো স্টেডিয়াম ৫ বছরের মধ্য ৫ টি ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে সেটি সবধরনের ক্রিকেট থেকে ১ বছর নিষিদ্ধ হয়। আর এই সময়ের মধ্য ১০ পয়েন্ট পেলে সে স্টেডিয়াম ২ বছর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে না । 

 

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, গড়পড়তার চেয়ে খারাপ পিচ হলে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয় সেই মাঠের বিপরীতে। বাজে পিচ হলে ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয় চারটি। অনুপযুক্ত হলে পাঁচটি। পিচ নিয়ে মোট ছয় ধরনের রেটিং আছে। এই ছয়টি রেটিং হচ্ছে যথাক্রমে: ১. ভেরি গুড (খুব ভালো), ২. গুড (ভালো), ৩. অ্যাভারেজ (গড়পড়তা), ৪. বিলো অ্যাভারেজ (গড়পড়তার চেয়ে খারাপ), ৫. পুওর (খারাপ), ৬. আনফিট (খেলার অযোগ্য)।

This platform is proudly developed and supported by Trenza Softwares