বিপিএলের ইতিহাস এবং কে কতবার জিতেছে শিরোপা!
১৮৭৭ সালে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ঐতিহাসিক ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু টেস্ট ক্রিকেটের। সময়ের হিসেবে বয়স ১৪৮ বছর! এই দীর্ঘ সময়ে টেস্ট ক্রিকেট সাক্ষী হয়েছে অজস্র রেকর্ডের। তবে কিছু রেকর্ড আছে, যেগুলো ভাঙা যেন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। আজকের ব্লগে আমরা জানব টেস্ট ইতিহাসের সেই অবিশ্বাস্য কিছু রেকর্ড, যেগুলো হয়তো ভবিষ্যতেও ভাঙ্গা অসম্ভব!
১. টেস্টে একটাই শতরানের ইনিংস, তা-ও আবার ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যানের নামের পাশে এই নজির থাকবে চিরকাল। ১৮৭৭ সালের সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া করে ২৪৫ রান। এর মধ্যে একা ব্যানারম্যানই করেন ১৬৫ রান। শতাংশের হিসাবে যা ৬৭.৩৪। এরপর মোট রানের এত শতাংশ রান করতে পারেনি কেউই।
২. ১৮৮৪ সালে লন্ডনে খেলা চলছে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার। ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন ডব্লিউ জি গ্রেস। সেই ম্যাচে প্রথম ব্যাট করে ৫৫১ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দলের ১১ জনকে দিয়েই বল করান গ্রেস।
৩. টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে হ্যাটট্রিক হয়েছে বহু বার। তবে অস্ট্রেলিয়ার লেগস্পিনার জিমি ম্যাথিউজ়ের যে রেকর্ড রয়েছে, তা আর কারও নেই। একমাত্র বোলার হিসাবে দু’ইনিংসেই হ্যাটট্রিকের রেকর্ড রয়েছে তাঁর।
৪. ২০০৪ সালে অ্যান্টিগায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪০০ রান করেন ব্রায়ান লারার। ৪০০ রানের ইনিংস খেলার সময় ৫৮২ বল খেলেছিলেন এই বাঁহাতি ক্যারিবীয়। অর্থাৎ প্রায় ১০০ ওভার ব্যাট করেছিলেন তিনি। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যুগে এতক্ষণ ব্যাট করা যে কোনও ব্যাটারের কাছেই বেশ কঠিন।
৫. ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাটিং গড় ৯৯.৯৪—ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর ও অপ্রতিরোধ্য এক পরিসংখ্যান। এই অজি কিংবদন্তি মাত্র ৫২টি টেস্ট ম্যাচে ৬৯টি ইনিংসে করেছিলেন ৬,৯৯৬ রান।
৬. এক ম্যাচে ১৯ উইকেট। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন অলৌকিক কীর্তি গড়েছেন ইংল্যান্ডের স্পিনার জিম লেকার। ১৯৫৬ সালে ম্যানচেস্টারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি প্রথম ইনিংসে নেন ৯ উইকেট, আর দ্বিতীয় ইনিংসে একাই শিকার করেন ১০টি! টেস্ট ক্রিকেটে এখনো কোনো বোলার এক ম্যাচে এত উইকেট নিতে পারেননি।
৭. এক সিরিজে ৪৯ উইকেট। ব্রিটিশ সিডনি বার্নসের এই কীর্তি আজও অক্ষত। ১৯১৩–১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৪ টেস্টেই তিনি নেন ৪৯ উইকেট, গড় ছিল মাত্র ১০.৬৩! টেস্ট সিরিজে এখন পর্যন্ত কেউ এত উইকেট নিতে পারেননি।
৮. শচীন টেন্ডুলকার—ক্রিকেট ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯৮৯ সালে টেস্ট অভিষেক, আর শেষ টেস্ট ২০১৩ সালে। দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ২০০টি টেস্ট ম্যাচ, যা এখনো সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর মোট ম্যাচ সংখ্যা ৬৬৪—এটিও সর্বোচ্চ। অনেকের মতে এ রেকর্ডগুলো কোনো দিনই ভাঙা সম্ভব নয়।
৯. মুত্তিয়া মুরালিধরন স্পিনের জাদুকর। টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ২০১০ সালে ৮০০ উইকেট নিয়ে টেস্ট থেকে বিদায় নেন মুরালিধরন। রেকর্ডটা এমন এক উচ্চতায়, যেটা আজও দূরের স্বপ্ন হয়ে আছে অন্যদের জন্য। স্পিন হোক বা পেস—এই সংখ্যার ধারেকাছেও কেউ আসতে পারেননি এখনো।
১০. অ্যালিস্টার কুক ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার। টেস্ট খেলেছেন ১৬১টি, যার মধ্যে শেষ ১৫৯টি খেলেছেন একটানা! কুকের এই রেকর্ড শুধু পরিসংখ্যান নয়, এক অনন্য অধ্যায়। কারণ, এত লম্বা সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় দলে খেলে যাওয়া—এটা শুধু প্রতিভা নয়, এক নিখুঁত পেশাদারিত্বের প্রতিচ্ছবি। এই রেকর্ড ভাঙা সত্যিই প্রায় অসম্ভব।
বাংলা
English
